রাতদিন ওয়েবডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের কৃষিকাজে এক অভাবনীয় সাফল্য এনে দিয়েছে রাজ্য সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম, যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলেছে খোদ রাষ্ট্রপুঞ্জের দরবারে। কৃষি দপ্তরের নিরন্তর প্রচেষ্টায় তুলাইপাঞ্জি, গোবিন্দভোগ ও কোনকচূড়-এর মতো সুগন্ধি চালের গুণমান উন্নয়ন ও বিপণন এখন উচ্চপর্যায়ে পৌঁছেছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের এই স্বীকৃতি কেবল বাংলার ধানের স্বাদ বা সুগন্ধের জন্য নয়, বরং বাংলার জলবায়ু ও পরিবেশবান্ধব চাষপদ্ধতির জন্য এক অনন্য সম্মান। এইসমস্ত চাল আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করার জন্য সুফল বাংলার মতো বিপণন কেন্দ্রগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সরকারের লক্ষ্য এখন এই স্বীকৃতির ওপর ভিত্তি করে চালের গুণমান বজায় রেখে বিশ্ব বাণিজ্যের আরও বড় অংশ দখল করা। কৃষিকাজে আধুনিকীকরণের পাশাপাশি ঐতিহ্যের সুরক্ষা প্রদানের এই মডেল বর্তমানে বিশ্বের কাছেও এক অনুসরণীয় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের এই স্বীকৃতি কেবল পশ্চিমবঙ্গের একটি কৃষিপণ্যের জয় নয়, বরং এটি বাংলার কৃষকের লড়াই ও সরকারের এক সম্মিলিত ফসল যা আগামীর কৃষিপথকে আরও সুগম ও সমৃদ্ধ করবে।পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি-সমস্যা দূর করতে ২০২০ সালে ‘মাটির সৃষ্টি’ প্রকল্প চালু করেছিল রাজ্য সরকার। এর মাধ্যমে রুক্ষ, অনাবাদি, এক-ফসলি জমিগুলিকে চাষের উপযোগী বানিয়ে তোলা হয় বিশেষ কৌশলে। এই সমস্ত জমির আশপাশে নতুন পুকুর তৈরি করা বা অন্য উপায়ে সেচের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাতে প্রচুর কর্মসংস্থান হয়েছে বলে জানিয়েছেন মমতা। এই প্রকল্পকে প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ও জীববৈচিত্রের সংরক্ষণের ক্ষেত্রে যোগ্য উদ্যোগ হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। মমতা লিখেছেন, ‘‘এটা খুব মর্যাদাপূর্ণ একটা সম্মান। রাষ্ট্রপুঞ্জের এফএও-র ডিরেক্টর জেনারেল আমাদের যে শংসাপত্রগুলি পাঠিয়েছেন, সেগুলি সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছি। এই স্বীকৃতি আমরা আমাদের গ্রামবাংলার মানুষ এবং বাংলাদের কৃষকদের উৎসর্গ করছি।’’ সুগন্ধি চালের বাজারে গোবিন্দভোগের জনপ্রিয়তা বিপুল। বর্ধমান, হুগলি, নদিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূমের মতো জেলাগুলিতে এই চালের চাষ হয়। তবে তুলাইপাঞ্জি উত্তরবঙ্গের চাল। মূলত উত্তর দিনাজপুর এবং সংলগ্ন এলাকায় এই চালের চাষ হয়। কনকচূড় ফলে দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। তবে পশ্চিমবঙ্গের যে কোনও প্রান্তেই এই সমস্ত চাল কিনতে পাওয়া যায়। রাষ্ট্রপুঞ্জে পশ্চিমবঙ্গের বাজারে বিখ্যাত এই তিন সুগন্ধি চালকে স্বীকৃতি দিল।

