রাতদিন ওয়েবডেস্ক : শহরে ফের এক নৃশংস খুনের ঘটনায় চরম চাঞ্চল্য ছড়াল। বীরভূম পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এক বধূর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় আতঙ্কে এলাকাবাসী। মৃতার নাম চায়না মণ্ডল গড়াই। বুধবার সকালে তাঁর নিজের বাড়ি থেকেই ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘরের ভেতরে ঢুকেই পুলিশ যে দৃশ্য দেখে, তাতে কার্যত শিউরে ওঠেন তদন্তকারীরা। মৃতার চোখ, মুখ, গলা ও শরীরের একাধিক অংশে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘরের মেঝে, দেয়াল ও আসবাবপত্রে রক্ত ছিটকে পড়ে ছিল। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, অত্যন্ত কাছ থেকে এবং একাধিকবার আঘাত করে এই খুন করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, খুনের সময় বাড়িতে চায়না ছাড়া আর কেউ উপস্থিত ছিলেন না। প্রতিবেশীদের দাবি, মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত বাড়িতে কোনো অস্বাভাবিক শব্দ তাঁরা শোনেননি। তবে বুধবার সকালে দীর্ঘক্ষণ দরজা বন্ধ থাকায় সন্দেহ হয়। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে দেহ উদ্ধার হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে তা ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর সঠিক সময়, আঘাতের ধরন এবং ব্যবহৃত অস্ত্র সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা মিলবে। তদন্তকারীরা বাড়িরও ভেতর থেকে একাধিক নমুনা সংগ্রহ করেছেন। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃতার মোবাইল ফোন, কল ডিটেইলস ও সাম্প্রতিক যোগাযোগের তালিকাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। খুনের পিছনে পারিবারিক বিবাদ, ব্যক্তিগত শত্রুতা না কি অন্য কোনো কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মৃতার আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, এখনই কাউকে আটক করা না হলেও একাধিক দিক থেকে তদন্ত এগোচ্ছে। এই নৃশংস খুনের ঘটনায় গোটা এলাকা জুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। টহলদারি বাড়ানো হয়েছে এলাকায়। বাসিন্দারা দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশের দাবি, ঘটনার কোনও দিকই বাদ দেওয়া হচ্ছে না। খুনের নেপথ্যে কারা জড়িত এবং কেন এই নৃশংসতা সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে।

