রাতদিন ওয়েবডেস্ক : দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভোট পাওয়ার লক্ষ্যে খয়রাতি বা বিনামূল্যে বিভিন্ন সুবিধা প্রদানের যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বৃহস্পতিবার তামিলনাড়ু রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার একটি আর্জির শুনানি চলাকালীন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এই বিষয়ে তাদের পর্যবেক্ষণে জানায় যে, জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের আড়ালে যথেচ্ছ ভাতা বিলি করার সংস্কৃতি রাজ্যের আর্থিক কাঠামোকে পঙ্গু করে দিচ্ছে।
আদালতের মতে, জনগণের মৌলিক সমস্যার সমাধান না করে কেবল তুষ্টিকরণ বা ভোটের রাজনীতির জন্য বিনামূল্যে পরিষেবা দেওয়া হলে রাজকোষের ওপর অভাবনীয় চাপ সৃষ্টি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে প্রধান অন্তরায়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান যে, অনেক রাজ্য বিপুল ঋণের বোঝায় ডুবে থাকা সত্ত্বেও রাজস্বের একটি বড় অংশ উন্নয়নের পরিবর্তে খয়রাতিতে ব্যয় করছে। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, মানুষের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের মৌলিক কর্তব্য হলেও, কারা প্রকৃতই সাহায্যের যোগ্য আর কারা নন, তা বিচার না করে ঢালাও সুযোগ সুবিধা দেওয়া আসলে সুশাসনের লক্ষণ নয়। আদালতের পরামর্শ হলো, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত সস্তা জনপ্রিয়তার পথে না হেঁটে বেকারত্ব দূরীকরণ এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের জন্য সুপরিকল্পিত দীর্ঘমেয়াদী নীতি প্রণয়ন করা। এই প্রবণতা কেবল একটি নির্দিষ্ট রাজ্যের নয়, বরং সারা দেশের সামগ্রিক চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে যা রাজনৈতিক ক্ষমতার মুদ্রা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে বাজেটে এই ধরনের খরচের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা না করে কেবল জনমোহিনী প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সংস্কৃতিকে আদালত অসম প্রতিযোগিতা হিসেবে অভিহিত করেছে। পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলোতেও যেখানে বহু জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু রয়েছে, সেখানে শীর্ষ আদালতের এই পর্যবেক্ষণ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মূলত রাজ্যের আর্থিক স্বাস্থ্য রক্ষা এবং প্রকৃত উন্নয়নের স্বার্থে সুপ্রিম কোর্ট এই 'ভাতা সংস্কৃতি'র পরিবর্তে পরিকল্পিত এবং গঠনমূলক প্রশাসনিক পদক্ষেপের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে।

