রাতদিন ওয়েবডেস্ক : সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে, তবে মস্কোর পক্ষ থেকে এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে জ্বালানি বাণিজ্য কোনো বাধার সম্মুখীন হয়নি এবং ভারত এখনও রাশিয়ার অন্যতম প্রধান তেলের ক্রেতা হিসেবে অবস্থান করছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কূটনৈতিক মহলে যে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল, ক্রেমলিনের এই সময়োপযোগী প্রতিক্রিয়া তাতে কার্যত জল ঢেলে দিয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও, ভারত শুরু থেকেই নিজের জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে রুশ তেল আমদানি অব্যাহত রেখেছে। রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেনের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং ডলারের বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে তা নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো ব্যক্তিত্ব যখন ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে জনসমক্ষে মন্তব্য করেন, তখন তা আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পায়, কিন্তু মস্কোর এই সরাসরি প্রত্যাখ্যান প্রমাণ করে যে নয়াদিল্লির সঙ্গে তাদের কৌশলগত অংশীদারিত্ব কতটা মজবুত। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকও বারবার জানিয়েছে যে, দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাশ্রয়ী মূল্যে তেল কেনা একটি অপরিহার্য সিদ্ধান্ত। রাশিয়ার পক্ষ থেকে দেওয়া এই বিবৃতিতে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, কেবল তেলের পরিমাণ বজায় রাখাই নয়, বরং ভবিষ্যতে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে হাইড্রোকার্বন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ট্রাম্পের দাবিটি কেবল রাজনৈতিক কৌশল নাকি ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছিল, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হলেও বাস্তব চিত্র বলছে যে ভারত ও রাশিয়ার তেলের লেনদেন আগের মতোই গতিশীল রয়েছে এবং কোনো তৃতীয় পক্ষের প্রভাবে এই বাণিজ্যিক সম্পর্কে ফাটল ধরার আপাতত কোনো অবকাশ নেই।

