রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ভারতের ব্যাটে কি বিশেষ জাদু? লঙ্কান ক্রিকেটারের রাবার তত্ত্ব ঘিরে তোলপাড় ক্রিকেটবিশ্ব, শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটার ভানুকা রাজাপক্ষের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ২০২৬ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আবহে তোলপাড় শুরু হয়েছে ক্রিকেট বিশ্বে। ভারতীয় ব্যাটারদের আকাশচুম্বী সাফল্য আর বিধ্বংসী ব্যাটিং দেখে তিনি এমন এক মন্তব্য করেন যা অনেকের কাছেই ছিল বিস্ময়কর। একটি সাক্ষাৎকারে রাজাপক্ষ দাবি করেন যে, ভারতীয় ব্যাটাররা এমন সব বিশেষ ব্যাট ব্যবহার করেন যা সাধারণের নাগালের বাইরে। তিনি বলেন ভারতীয় ক্রিকেটারদের ব্যাট আমাদের পাওয়া সেরা ব্যাটগুলোর চেয়েও অনেক উন্নত।
ওগুলো দিয়ে শট নিলে মনে হয় যেন ব্যাটের ভেতরে রাবারের একটি স্তর লাগানো আছে। এটা কীভাবে সম্ভব আমি জানি না, তবে এই ব্যাটগুলো অন্য কেউ কিনতেও পারে না সব খেলোয়াড়ই এই গোপন কথাটি জানে। তার এই মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল পড়ে যায়। অনেকেই একে ভারতীয় ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে ব্যাট টেম্পারিং বা অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার পরোক্ষ অভিযোগ হিসেবে দেখতে শুরু করেন। বিপাকে রাজাপক্ষ ও পরে সাফাই মন্তব্যটি নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে উঠলে এবং ভারতীয় সমর্থকদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়ে ভানুকা রাজাপক্ষ দ্রুত নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে বাধ্য হন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট দিয়ে জানান যে, তার কথা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। প্রশংসা হিসেবে মন্তব্য তিনি দাবি করেন, তিনি আসলে ভারতীয় ক্রিকেটের উন্নত পরিকাঠামো এবং ব্যাটের গুণগত মানের প্রশংসা করতে চেয়েছিলেন। ভারতীয় ব্যাট প্রস্তুতকারকরা বিশ্বের অন্যতম সেরা এবং তাদের ব্যবহৃত কাঠ উইলো ও প্রযুক্তি অত্যন্ত উন্নত, এটাই তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন। অনুবাদের ভুল তার দাবি, সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ ভুলভাবে অনুবাদ করা হয়েছে অথবা প্রসঙ্গের বাইরে পরিবেশন করা হয়েছে। তিনি ভারতকে অসম্মান করতে চাননি। আসল কারণ কী হতে পারে? বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক স্তরের ক্রিকেটাররা বিশেষ ধরনের প্লেয়ার এডিশন ব্যাট ব্যবহার করেন। এগুলো সাধারণ দোকানে পাওয়া ব্যাটের চেয়ে অনেক বেশি কাস্টমাইজড হয়। ভারতের অভিষেক শর্মা বা সূর্যকুমার যাদবদের মতো ব্যাটাররা ব্যাটের ব্যালেন্স ও ওয়েট ডিস্ট্রিবিউশন নিয়ে খুব সচেতন থাকেন। আইসিসি র নিয়ম অনুযায়ী ব্যাটে রাবার বা কোনো বাড়তি স্প্রিং লাগানো সম্পূর্ণ অবৈধ। আম্পায়াররা নিয়মিত ব্যাটের মাপ ও উপাদান পরীক্ষা করেন, ভানুকা রাজাপক্ষর মন্তব্যটি সম্ভবত নিছক বিস্ময় থেকে করা হলেও, শব্দ চয়নের ভুলে তা বড় বিতর্কের জন্ম দেয়। শেষ পর্যন্ত সম্মান বজায় রাখার বার্তা দিয়েই তিনি এই বিতর্কে ইতি টানতে চেয়েছেন।

