রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে সাম্প্রতিক অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে বিশ্বরাজনীতিতে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে। একদিকে যখন নয়াদিল্লি এবং ওয়াশিংটন এই চুক্তিকে ঐতিহাসিক বলছে, তখন অন্যদিকে মস্কোর কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, ভারতের সঙ্গে একটি বড় মাপের বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর আমেরিকার চাপানো ৫০% শুল্ক কমে ১৮% এ নেমে আসবে। তবে এর বিনিময়ে ট্রাম্প একটি অত্যন্ত বিতর্কিত দাবি করেছেন।
তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে এবং পরিবর্তে আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলা থেকে জ্বালানি আমদানি করতে রাজি হয়েছেন। মস্কোর উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া মস্কো এই চুক্তির প্রভাব নিয়ে সরাসরি কোনো চরম বার্তা না দিলেও তাদের কথায় স্পষ্ট অস্বস্তি ধরা পড়েছে, সার্গেই ল্যাভরভের আক্রমণ রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সার্গেই ল্যাভরভ মার্কিন নীতিকে জবরদস্তিমূলক বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, আমেরিকা জোর করে ভারতকে সস্তায় রুশ তেল কেনা থেকে আটকাতে চাইছে যাতে তারা নিজেদের দামি গ্যাস LNG বিক্রি করতে পারে, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ জানিয়েছেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে এমন কোনো সরকারি বার্তা তারা নয়াদিল্লির থেকে পাননি। তিনি মনে করেন, ভারত একটি স্বাধীন দেশ এবং তারা কার কাছ থেকে তেল কিনবে তা নিজেরাই ঠিক করবে। সম্পর্কে প্রভাবের আশঙ্কা রাশিয়ার উপ বিদেশমন্ত্রী সার্গেই রিয়াবকভ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে, তাঁরা আশা করেন এই চুক্তির ফলে ভারত রাশিয়া দীর্ঘদিনের গভীর সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ, ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট করেছে যে, ভারতের অগ্রাধিকার হলো দেশের ১৪০ কোটি মানুষের জন্য সস্তায় জ্বালানি নিশ্চিত করা। নয়াদিল্লি সরাসরি রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধের কথা না বললেও, গত কয়েক মাসে রুশ তেল আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে উৎস বৈচিত্র্যকরণ Diversification করার ইঙ্গিত দিয়েছে। এটি আসলে আমেরিকার চাপ এবং রাশিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্ব উভয়কেই সামলানোর একটি কৌশল। মার্কিন নীতির লক্ষ্য কী? আমেরিকার এই নীতির প্রধান লক্ষ্য হলো রাশিয়ার আয়ের উৎস বন্ধ করে দেওয়া, যাতে ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কো অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। ট্রাম্প প্রশাসন ভারতকে এই টোপ দিয়েছে যে, রুশ তেল ত্যাগ করলে ভারত আমেরিকার বাজারে বিশাল সুবিধা পাবে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যের সুযোগ, মস্কো মনে করছে আমেরিকা দাদাগিরি করে ভারতের ওপর নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, ভারত চেষ্টা করছে সাপও যাতে মরে এবং লাঠিও যাতে না ভাঙে অর্থাৎ আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানো এবং রাশিয়ার সঙ্গে পুরনো বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখা।

