রাতদিন ওয়েবডেস্ক : শহরের প্রতিটি নাগরিক যাতে সমান ভাবে আইনি পরিষেবা পান, সেই লক্ষ্যেই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিল কলকাতা পুলিশ। প্রবীণ ও বিশেষ ভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের থানায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অসুবিধা দূর করতে সব থানায় র্যাম্প তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারের নির্দেশেই এই পদক্ষেপ বলে সূত্রের খবর।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতায় মোট ৮০টি থানা রয়েছে। এর মধ্যে এতদিন ২৫টি থানায় র্যাম্পের ব্যবস্থা ছিল। বাকি ৫৫টি থানার মধ্যে ৩৫টিতে ইতিমধ্যেই র্যাম্প তৈরির কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে।
অবশিষ্ট ২০টি থানায় নির্মাণকাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। প্রশাসনের আশা, খুব শিগগিরই শহরের সব থানাতেই এই পরিকাঠামো তৈরি হয়ে যাবে।নতুন ব্যবস্থায় থানার মূল প্রবেশপথে ঢালু পাটাতন বা র্যাম্প থাকবে, যাতে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীরা সহজেই ভিতরে প্রবেশ করতে পারেন। পাশাপাশি, লাঠি ভর দিয়ে হাঁটা প্রবীণ নাগরিকদের জন্যও এটি অনেকটা স্বস্তি দেবে। এতদিন বহু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, থানার সিঁড়ি পেরোনোই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াত। অনেককে অন্যের সাহায্যের উপর নির্ভর করতে হত। ফলে অভিযোগ জানাতে গিয়েও ভোগান্তির শিকার হতে হত তাঁদের।পুলিশের এক কর্তার কথায়, আইন সকলের জন্য সমান। কোনও নাগরিক শুধুমাত্র শারীরিক অসুবিধার কারণে যেন ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, সেটাই নিশ্চিত করতে চাইছে পুলিশ প্রশাসন। প্রবীণ ও বিশেষ ভাবে সক্ষম মানুষ যাতে প্রয়োজনে নিজে থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন, সেই পরিবেশ গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।নগর পরিকল্পনা ও নাগরিক পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তিমূলক ভাবনার গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। সেই ধারাবাহিকতায় কলকাতা পুলিশের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক বলেই মনে করছেন অনেকে। প্রশাসনের মতে, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নয়, নাগরিকবান্ধব পরিকাঠামো গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।সব মিলিয়ে, এই পদক্ষেপ শহরের প্রবীণ ও বিশেষ ভাবে সক্ষম বাসিন্দাদের কাছে স্বস্তির বার্তা এনে দিয়েছে। থানার দরজা এখন সত্যিই সবার জন্য আরও সহজে উন্মুক্ত হতে চলেছে।

