রাতদিন ওয়েবডেস্ক : বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পৃথিবীর সামুদ্রিক ভারসাম্য কি চিরতরে বদলে যেতে চলেছে? সম্প্রতি বিজ্ঞানীদের একটি গবেষণায় উঠে আসা তথ্য সেই আশঙ্কাই বাড়িয়ে দিয়েছে। দেখা গেছে, অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশকে ঘিরে থাকা দক্ষিণ মহাসাগরের শক্তিশালী জলস্রোত তার স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন করছে। প্রকৃতির এই আকস্মিক রদবদল কেবল সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র নয়, বরং গোটা বিশ্বের আবহাওয়া মণ্ডলের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেন এই দিক পরিবর্তন? গবেষকদের মতে, গত কয়েক দশকে মেরু অঞ্চলের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এর ফলে অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলছে দ্রুত গতিতে। এই বিশাল পরিমাণ মিষ্টি জল সমুদ্রে মেশার ফলে লোনা জলের ঘনত্ব কমে যাচ্ছে। লোনা ও মিষ্টি জলের এই ভারসাম্যের অভাব এবং বায়ুমণ্ডলের বায়ুপ্রবাহের ধরনে পরিবর্তনের কারণেই দক্ষিণ মহাসাগরের স্রোত তার নির্দিষ্ট পথ থেকে বিচ্যুত হচ্ছে। দক্ষিণ মহাসাগরকে বলা হয় পৃথিবীর কার্বন সিঙ্ক। এটি বায়ুমণ্ডল থেকে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু স্রোতের গতিপথ বদলে গেলে এই শোষণ ক্ষমতা ব্যাহত হবে।
ফলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিন হাউস গ্যাসের পরিমাণ বাড়বে এবং বিশ্ব উষ্ণায়নের গতি আরও ত্বরান্বিত হবে। দ্বিতীয়ত, এই স্রোত মহাসাগরের নীচের পুষ্টিকর উপাদানগুলোকে উপরের স্তরে নিয়ে আসে, যা সামুদ্রিক জীবকুলের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য। স্রোতের পরিবর্তন ঘটলে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়তে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে মৎস্য শিল্পের ওপর। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, দক্ষিণ মহাসাগরের এই পরিবর্তন কেবল একটি নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি আটলান্টিক বা ভারত মহাসাগরের তাপমাত্রাকেও প্রভাবিত করবে।
এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে খরা, বন্যা বা অতিবৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রবণতা বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। সমুদ্রবিজ্ঞানী ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই যদি কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে সমুদ্র স্রোতের এই পরিবর্তন আগামী দিনে পৃথিবীকে এক অপূরণীয় ক্ষতির মুখে দাঁড় করিয়ে দেবে। মেরু অঞ্চলের এই নিরন্তর পরিবর্তন আসলে মানবজাতির জন্য এক বড়সড় সতর্কবার্তা।

