রাতদিন ওয়েবডেস্ক : জামিনে মুক্তির পর এই প্রথম নিজের বিধানসভা কেন্দ্র বেহালা পশ্চিমে পা রাখলেন তৃণমূলের প্রাক্তন মহাসচিব ও পাঁচবারের বিধায়ক পার্থ চ্যাটার্জী । শনিবার দুপুরে নাকতলার বাসভবন থেকে বেহালার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। বেলা পৌনে একটা নাগাদ ম্যান্টনে নিজের বিধায়ক কার্যালয়ের সামনে পৌঁছে অনুগামীদের সঙ্গে কথা বলেন।সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, আবার বেহালা পশ্চিম থেকে ভোটে দাঁড়াবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেবে দল। তাঁর কথায়, “আমি ভোটে দাঁড়াব কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে দল। তার পর আমার মত। তবে আমি দলের সঙ্গেই আছি।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।পার্থের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু ২০০১ সালে। সে বছর বহুজাতিক সংস্থার চাকরি ছেড়ে বেহালা পশ্চিম কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থী হন তিনি। সিপিএম নেতা নির্মল মুখোপাধ্যায়কে হারিয়ে প্রথম বার বিধানসভায় প্রবেশ করেন। ২০০৬ সালে তৃণমূলের খারাপ ফলের মধ্যেও তিনি জয়ী হন।
পরবর্তীতে তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা ব্যানার্জী তাঁকে ওয়েস্ট বেঙ্গল লেগিশ্লাটিভ অ্যাসেম্বলি-তে বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব দেন। এরপর ২০১১, ২০১৬ ও ২০২১ সালেও বেহালা পশ্চিম থেকে জয়ী হন তিনি।তবে ২০২২ সালের ২২ জুলাই গভীর রাতে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে ইডি-র হাতে গ্রেফতার হন পার্থ। সেই সময় তিনি রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী ছিলেন। গ্রেফতারের পর তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে সরানো হয় এবং তৃণমূলের মহাসচিব পদ থেকেও অপসারণ করা হয়। পাশাপাশি দল থেকে ছয় বছরের জন্য সাসপেন্ড করা হয়, যা এখনও বহাল রয়েছে।তিন বছর তিন মাসের বেশি সময় জেলবন্দি থাকার পর গত বছর নভেম্বর মাসে জামিনে মুক্তি পান পার্থ। তবে মুক্তির পর হাতের চোটের কারণে তাঁকে এক মাসেরও বেশি সময় হাসপাতালে থাকতে হয়। সম্প্রতি শারীরিকভাবে সুস্থ হওয়ার পর তিনি জানিয়েছিলেন, বেহালা পশ্চিমে গিয়ে ভোটারদের ধন্যবাদ জানাবেন। সেই অনুযায়ী ভাষা দিবসের দিনটিকেই নিজের কেন্দ্র সফরের জন্য বেছে নেন।
নিজের কেন্দ্রের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে পার্থ বলেন, “বেহালা পশ্চিমের মানুষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তাঁরা আমাকে পাঁচ বার জিতিয়েছেন। আমি সব সময় সেই কৃতজ্ঞতা মনে রাখব। আমি বলতে এসেছি, আমি তোমাদেরই লোক।”তবে তাঁর সফরে তৃণমূলের স্থানীয় ১০ জন কাউন্সিলরের কাউকেই পাশে দেখা যায়নি। অনুগামীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তাঁদের অনুরোধে গাড়িতে বসেই চা পান করেন পার্থ। পরে গাড়িতে করে বিধানসভা এলাকার কিছু অংশ ঘুরে দেখেন এবং কিছুক্ষণ পর নাকতলার উদ্দেশে রওনা দেন।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ এখনও আদালতে বিচারাধীন এবং তিনি অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন। দীর্ঘ কারাবাস ও দলীয় সাসপেনশনের প্রেক্ষিতে আগামী নির্বাচনে তাঁকে টিকিট দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে। আপাতত পার্থ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে দলের সিদ্ধান্তের উপরই।
