রাতদিন ওয়েবডেস্ক : পাঁচ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন কর্নাটকের শিরাহাট্টি কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রু লামানি । শনিবার লোকায়ুক্ত পুলিশের অভিযানে তাঁকে হাতেনাতে ধরা হয় বলে জানা গিয়েছে। ঘটনায় তাঁর দুই ব্যক্তিগত সহকারী মঞ্জুনাথ বাল্মীকি ও গুরুনায়েককেও গ্রেফতার করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন আইনে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।পুলিশ সূত্রে খবর, একটি সেচ প্রকল্পে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে মোট ১১ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছিল। অভিযোগকারী বিজয় পুজারী গাদাগ জেলার প্রথম শ্রেণির এক ঠিকাদার। তাঁর দাবি, প্রকল্প অনুমোদনের জন্য বিধায়কের ঘনিষ্ঠ মহল থেকে ১১ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি কর্নাটক লোকায়ুক্তের দ্বারস্থ হন।
অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক অনুসন্ধান চালিয়ে ফাঁদ পাতে লোকায়ুক্ত পুলিশ।তদন্তকারী সংস্থার দাবি, শনিবার পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযানে নামেন অফিসাররা। ঘুষের টাকার লেনদেনের সময় বিধায়ককে হাতেনাতে ধরা হয়। প্রথমে তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে আনুষ্ঠানিক ভাবে গ্রেফতার করা হয়। বিধায়কের দুই সহকারীকে ঘটনাস্থল থেকেই নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। তাঁদের ভূমিকা নিয়েও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।পুলিশের সন্দেহ, মঞ্জুনাথ বাল্মীকি এবং গুরুনায়েক এই লেনদেনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছিলেন। ঘুষের টাকা সংগ্রহ এবং যোগাযোগ রক্ষার দায়িত্ব তাঁদের উপরই ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।লোকায়ুক্ত পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানের সময় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং সম্ভাব্য প্রমাণ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেই সব নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য জানতে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও অন্যান্য নথিও পরীক্ষা করা হবে।
প্রয়োজনে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতের আবেদন জানানো হতে পারে বলে সূত্রের খবর।এই ঘটনায় কর্নাটকের রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিরোধীরা ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ শুরু করেছে। যদিও অভিযুক্ত বিধায়কের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বও এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।উল্লেখ্য, কর্নাটকে দুর্নীতির অভিযোগে লোকায়ুক্ত পুলিশের সক্রিয় ভূমিকা অতীতেও দেখা গিয়েছে। বিভিন্ন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে। এই ঘটনার পর ফের এক বার রাজ্যে দুর্নীতি ইস্যুতে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অভিযোগের পুরো চক্রটি খতিয়ে দেখা হবে। শুধু ঘুষ গ্রহণ নয়, এর সঙ্গে আর কারা যুক্ত, তা-ও তদন্তের আওতায় আনা হবে। প্রয়োজনে আরও তল্লাশি অভিযান চালানো হতে পারে। আপাতত তিন অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হবে এবং পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হবে।ঘটনার জেরে শিরাহাট্টি কেন্দ্রেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহল পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। তদন্তের অগ্রগতির উপরই নির্ভর করবে বিধায়কের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান।
