রাতদিন ওয়েবডেস্ক : চলতি বাজেট অধিবেশনের শুরু থেকেই অচলাবস্থার ছবি স্পষ্ট। বিরোধীদের ধারাবাহিক বিক্ষোভের জেরে শুক্রবারও লোকসভা ও রাজ্যসভার কার্যক্রম মুলতুবি রাখতে বাধ্য হল সংসদ। বাজেট অধিবেশনের পঞ্চম দিনেই চলতি সপ্তাহের জন্য দুই কক্ষের সভা স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। আগামী সোমবার ফের বসবে সংসদ। ফলে প্রথম সপ্তাহের বড় অংশই কার্যত কোনও কাজ ছাড়াই কেটে গেল।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ৬৫ দিনের বাজেট অধিবেশনে মোট ৩০ দিন সংসদের কাজ হওয়ার কথা। প্রথম পর্ব চলবে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। তার পর বিরতি শেষে ৯ মার্চ আবার শুরু হবে অধিবেশন। দ্বিতীয় পর্ব শেষ হবে আগামী ২ এপ্রিল। তবে প্রথম সপ্তাহেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সুযোগ হাতছাড়া হল বলে মত সংসদীয় মহলের।সভা মুলতুবির পরেও শুক্রবার সংসদ ভবনের মকর দ্বারের সামনে বিক্ষোভে নামেন বিরোধী সাংসদরা। তাঁদের অভিযোগ, কেন্দ্র সরকার আমেরিকার সঙ্গে প্রস্তাবিত বাণিজ্যচুক্তির মাধ্যমে দেশের কৃষকদের স্বার্থ বিপন্ন করছে। পাশাপাশি গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত করার অভিযোগও তোলেন তাঁরা।সংসদের অচলাবস্থার সূত্রপাত হয় সোমবার। অধিবেশন শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিজেপি সাংসদ তেজস্বী সূর্য কংগ্রেসকে কটাক্ষ করেন। তার পর লোকসভায় বক্তব্য রাখতে উঠে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী প্রাক্তন সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নরবণের একটি অপ্রকাশিত বইয়ের অংশ উদ্ধৃত করতে শুরু করেন। সেই অংশে ডোকলামে ভারত-চিন সংঘাতের সময় চিনা ট্যাঙ্ক ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ার উল্লেখ ছিল।এই বক্তব্যে আপত্তি জানান প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ এনডিএর একাধিক নেতা। স্পিকার ওম বিড়লা সংসদীয় বিধি মেনে রাহুলকে বইয়ের উদ্ধৃতি না দিয়ে বক্তব্য চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এরপরই সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়।এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যচুক্তি সংক্রান্ত ঘোষণাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, আমেরিকার কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য ভারতের বাজার খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এই চুক্তির খসড়া প্রকাশ না করায় কেন্দ্রের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।বিরোধীদের হট্টগোলের জেরে বুধবার লোকসভায় প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত বক্তৃতাও বাতিল হয়। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ছাড়াই ধ্বনিভোটে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদ প্রস্তাব পাশ করানো হয় লোকসভায়। যদিও বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় সেই প্রস্তাবের পক্ষে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

