রাতদিন ওয়েবডেস্ক : পৃথিবীর নিরাপত্তার জন্য মহাকাশে ওত পেতে থাকা হাজার হাজার গ্রহাণু এখন বিজ্ঞানীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা সাম্প্রতিক এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, মহাকাশে এমন প্রায় ১৫ হাজার মাঝারি আকারের গ্রহাণু ঘুরে বেড়াচ্ছে, যাদের হদিস এখনো বিজ্ঞানীদের রাডারে ধরা পড়েনি। নাসার গবেষক কেলি ফাস্ট এক বিজ্ঞান সম্মেলনে জানিয়েছেন, এই গ্রহাণুগুলো গড়ে প্রায় ১৪০ মিটার চওড়া এবং এদের অবস্থান শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজ্ঞানীরা এই ধরনের গ্রহাণুগুলোকে ‘সিটি কিলার’ বা ‘নগর ধ্বংসকারী’ হিসেবে অভিহিত করছেন, কারণ এগুলো কোনো জনবহুল অঞ্চলে আছড়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে একটি ছোট শহরকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
সাধারণত বিশালাকার গ্রহাণুগুলো সহজেই টেলিস্কোপে ধরা পড়ে এবং তাদের গতিপথ আগেভাগেই জানা সম্ভব হয়, কিন্তু মাঝারি আকারের এই গ্রহাণুগুলো পৃথিবীর আধুনিকতম টেলিস্কোপকেও ফাঁকি দিতে সক্ষম। এর ফলে এগুলো কখন, কোথা থেকে ধেয়ে আসবে, সে বিষয়ে কোনো সঠিক ধারণা পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ন্যান্সি শাবট সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, এই মুহূর্তে পৃথিবীর হাতে এমন কোনো উন্নত মহাকাশযান নেই যা দ্রুতগতিতে ধেয়ে আসা এই গ্রহাণুগুলোকে পুরোপুরি প্রতিহত করতে পারে। এমনকি গত বছর 'ওয়াইআর ৪' নামক একটি ফুটবল মাঠের সমান বড় গ্রহাণু পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে যাওয়ার পরই কেবল বিজ্ঞানীদের নজরে এসেছিল, যা মহাকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকেই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। বর্তমানে বিজ্ঞানীরা ১৪০ মিটারের বেশি চওড়া গ্রহাণুগুলোর মাত্র ৪০ শতাংশ খুঁজে পেতে সক্ষম হয়েছেন। বাকি ৬০ শতাংশ এখনো নিখোঁজ থাকায় পৃথিবীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। নাসার মূল লক্ষ্য এখন এই অদৃশ্য গ্রহাণুগুলোকে চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যতে কোনো বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি গড়ে তোলা।

