রাতদিন ওয়েবডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের পাঁচ রাজ্যসভা আসনের নির্বাচনের জন্য তৎপরতা শুরু হয়েছে বিধানসভায়। দেশের মোট ৩৭টি আসনের রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য আগামী ১৬ মার্চ ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে ভোট হয় সংশ্লিষ্ট বিধানসভায়, তাই নির্বাচন পরিচালনার মূল দায়িত্ব পালন করতে হয় বিধানসভা সচিবালয়কে।বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ৫ মার্চ। পরের দিন, অর্থাৎ ৬ মার্চ, মনোনয়নপত্র স্ক্রুটিনি হবে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারিত হয়েছে ৯ মার্চ। তবে মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন এবং স্ক্রুটিনি’র সময় দেশের মধ্যে সরকারি ছুটি রয়েছে।
৩ ও ৪ মার্চ সারাদেশে দোল ও হোলি উৎসব উপলক্ষে বিধানসভা সচিবালয় কোনো কার্যক্রম করতে পারবে না। তাই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে যাবতীয় প্রস্তুতি আগে থেকেই শেষ করতে চান।রাজ্যসভা নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার হলেন সংশ্লিষ্ট বিধানসভার সচিব। তার হাতেই থাকে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই, স্ক্রুটিনি, ভোট অনুষ্ঠিত না হলে জয়ী প্রার্থীদের শংসাপত্র দেওয়া সব কার্যক্রমের দায়িত্ব। পশ্চিমবঙ্গের পাঁচ আসনে যদি ঠিক পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়ন দেন, তবে ভোট অনুষ্ঠিত হবে না। সেই ক্ষেত্রে স্ক্রুটিনির পরেই জয়ী প্রার্থীদের শংসাপত্র প্রদান করা হবে। কিন্তু যদি এক জন অতিরিক্ত প্রার্থী যোগ হয়, ভোট হবে ১৬ মার্চ এবং সেইদিনই গণনার পর বিজয়ীদের শংসাপত্র দেওয়া হবে। বিধানসভা সচিবালয় দুই পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত রয়েছে।চলতি নির্বাচনে একজন প্রার্থী জিততে প্রয়োজন ৫০ জন বিধায়কের সমর্থন। এই হিসাবে তৃণমূল কংগ্রেসের চারজন এবং বিজেপির একজন প্রার্থীর জয় নিশ্চিত। তবে কোনো দল অতিরিক্ত প্রার্থী দিলে ভোট বাধ্যতামূলক হবে। এদিকে, বিধানসভা নির্বাচন চলাকালীনই পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্টও ঘোষণা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এতে নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ বাড়বে।অতিরিক্ত চাপের মধ্যে শাসক ও বিরোধী দুই পক্ষকেই একদিকে রাজ্যসভা ভোটের দিকে নজর রাখতে হবে, অন্যদিকে বিধায়করা দলীয় নির্দেশ মেনে ভোট দিতে বাধ্য থাকবেন। বিধানসভা সচিবালয় এই সমস্ত পরিস্থিতি মাথায় রেখে নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। সুতরাং রাজ্যসভা ভোট পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।

