রাতদিন ওয়েবডেস্ক : বালোচিস্তানের খনিজ সমৃদ্ধ শহর নুশকিকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা তিন দিনের তীব্র লড়াইয়ের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী শহরটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এই অভিযানে সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার ও ড্রোন ব্যবহার করে আকাশপথে ব্যাপক হামলা চালায়। সংঘর্ষের শুরু হয় গত শনিবার, যখন বালোচ বিদ্রোহীরা নুশকির বিভিন্ন ব্যাংক, বিদ্যালয় এবং জনাকীর্ণ বাজারে অতর্কিত হামলা চালায়।
বিদ্রোহীদের সেই হামলায় বেশ কয়েকজন সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারান, যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটায়। এই নাশকতার কড়া জবাব দিতে বুধবার থেকে পাল্টা অভিযান শুরু করে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। সরকারি সূত্রের দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০ জন বালোচ বিদ্রোহী নিহত হয়েছে, তবে লড়াই চলাকালীন বিদ্রোহীদের মোকাবিলা করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন নিরাপত্তা বাহিনীর ৭ জন উচ্চপদস্থ আধিকারিকও। আফগানিস্তান ও ইরান সীমান্তবর্তী এই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শহরটিতে বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় প্রশাসন নুশকিসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। জনসমাবেশ, মিছিল এবং সব ধরণের বিক্ষোভ প্রদর্শনের ওপর জারি করা হয়েছে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা। খনিজ সম্পদে ঠাসা এই অঞ্চলে বিদ্রোহীদের আধিপত্য খর্ব করতে সেনাবাহিনী তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে। সীমান্তের ওপার থেকে বিদ্রোহীদের কোনো রকম মদত পাওয়ার সম্ভাবনা রুখতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে কয়েক গুণ। বালোচিস্তানের এই অস্থিরতা কেবল স্থানীয় নিরাপত্তার জন্যই নয়, বরং ওই অঞ্চলের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও বড়সড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে নুশকি সেনা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি, এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তি বজায় রাখার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

