রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ভারতীয় বায়ুসেনা এবার আরও শক্তিশালী দূরপাল্লার আক্রমণ সক্ষমতা অর্জনের পথে এগোচ্ছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের নেতৃত্বাধীন ‘প্রতিরক্ষা ক্রয় বিষয়ক সমিতি’ বা ডিফেন্স অ্যাকুইজ়িশন কাউন্সিল (ডিএসি) সম্প্রতি ফ্রান্স থেকে ১৫০টি অতিরিক্ত স্ক্যাল্প ক্ষেপণাস্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই কেনার জন্য ব্যয় হবে মোট ৩২০০ কোটি টাকা।স্ক্যাল্প ক্ষেপণাস্ত্র, যা ইউরোপে ‘স্টর্ম শ্যাডো’ নামে পরিচিত, অত্যাধুনিক ‘আকাশ থেকে ভূমি’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এটি রাডার নজরদারি এড়িয়ে গোপনে আঘাত করতে সক্ষম এবং লক্ষ্যবস্তুকে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে নিশানায় আঘাত করে।
ক্ষেপণাস্ত্রটি টার্বোজেট ইঞ্জিন দ্বারা চালিত এবং এর পাল্লা প্রায় ৫০০ কিলোমিটার। এতে তিন ধরনের নেভিগেশন সিস্টেম আছে, যা লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে সাহায্য করে। বিশেষ সেন্সর এবং ‘ইমেজিং ইনফ্রারেড সিকার’ প্রযুক্তির কারণে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার আগে ক্ষেপণাস্ত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে টার্গেট চিহ্নিত করতে সক্ষম।স্ক্যাল্প ক্ষেপণাস্ত্রের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এটি দিনে-রাতে এবং সব ধরনের আবহাওয়ায় ব্যবহারযোগ্য। শক্ত বাঙ্কারও এটি ভেদ করতে পারে, ফলে শত্রুর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি ধ্বংস করা সম্ভব হয়। বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী মূলত এই কারণে স্ক্যাল্প ব্যবহার করে। ইউক্রেন গত বছর প্রথমবার রাশিয়ার ভেতরে হামলার জন্য এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেছিল। ভারতও ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ পাকিস্তানের তিনটি সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিতে হামলা চালাতে স্ক্যাল্প ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।ভারতীয় বায়ুসেনার রাফাল যুদ্ধবিমান মাত্র ২৫ মিনিটে এই অপারেশন সম্পন্ন করেছিল। ক্ষেপণাস্ত্রটি খুব নিচু উড়ে যায়, ফলে শত্রুর রাডারে ধরা পড়া প্রায় অসম্ভব। এ কারণে এটি সঠিক নিশানায় আঘাত করতে পারার পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় collateral damage কমিয়ে আনে।ডিএসির এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ভারতীয় বিমান বাহিনীর দূরপাল্লার আক্রমণ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশের সুরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ হবে। দেশীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্ক্যাল্প ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও আধুনিক ও কার্যকরী করে তুলবে।

