রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ভালোবাসা কি একদিনে সীমাবদ্ধ? না কি রাজনীতিকদের ব্যস্ত জীবনের মাঝেও টিকতে পারে চিরন্তন? প্রেম ও সম্পর্কের নানা রঙে ভ্যালেন্টাইন ডে বাংলার রাজনীতির অঙ্গনে এই প্রশ্নই বেশি শোনা যায়। জনতার সঙ্গে ব্যস্ততার ছন্দ, একাধিক দায়িত্বের ভার – এসব কি প্রভাব ফেলে ব্যক্তিগত ভালোবাসায়?বসন্তের আগমন আর হালকা রোদ্দুরের সঙ্গে যেন চারপাশে ভালোবাসার আবহ ভেসে আসে। একসঙ্গে থাকার অভ্যাস, সম্পর্ক উদযাপন, ছোট ছোট মুহূর্ত – এসবই আশ্বস্ত করে মানুষকে। কিন্তু রাজনৈতিক জীবনের চাপে, রাজনীতিকদের জন্য ভ্যালেন্টাইন ডে কি শুধু আরেকটি দিন, নাকি তা বিশেষ কিছু বোঝায়?বিবাহিত রাজনীতিকদের কাছে ভালোবাসা চিরন্তন।
সদ্যবিবাহিত বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালকে বলছেন, “ভালোবাসা আমাদের সংস্কৃতিতে একদিনের জন্য নয়। যুগ যুগ ধরে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা চলেছে। একদিনের ভালোবাসা নয়, চিরন্তন ভালোবাসাই আসল। ভ্যালেন্টাইন ডে উপলক্ষে বিশেষ উদযাপন করা হবে এমন নয়।” একই সুরে তৃণমূলের বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিক যোগ করেন, “ভালোবাসা সবদিনই উদযাপন করা উচিত। আমার কাছে ১৪ ফেব্রুয়ারি আলাদা কারণ এদিন আমি অফিসিয়ালি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই।”তবে সিঙ্গল রাজনীতিকদের দৃষ্টিকোণ আলাদা। সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় সিপিএম নেতা দীপ্সিতা ধর বলেছেন, “ভালোবাসা প্রতিদিনের। নির্দিষ্ট দিনের উদযাপন নয়। ভালোবাসা হতে পারে পরিবার, দলের কমরেড, এমনকি পোষ্যও।” অন্যদিকে তৃণমূলের যুবনেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য বলেন, “ভ্যালেন্টাইন ডে আমার কাছে আলাদা নয়। যদিও বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে বেরিয়েছি, কাপলদের খুশি দেখেছি, নিজের জীবনে সিরিয়াস সম্পর্ক ছিল না। তবুও ভালোবাসা চিরন্তন – এটি প্রতিটি সম্পর্কই প্রমাণ করে।”শাশ্বত ভালোবাসা শুধু সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উজ্জীবিত করে। সমকাম বা বিষমকাম, পোষ্য বা পরিবার – ভালোবাসার রূপ বহু এবং তা রাজনীতিকদের ব্যক্তিগত জীবনকেও স্পর্শ করে। বাংলার রাজনৈতিক অঙ্গনে, ভ্যালেন্টাইন ডে হয়তো শুধুই একটি দিন, কিন্তু ভালোবাসা তার ছায়ায় চিরন্তন।রাজনৈতিক উত্তাপের আঙিনায় যতই ব্যস্ত থাকুক কেউ, ভালোবাসা সবসময়ই তার পথ খুঁজে নেয় – কখনও অফিসিয়াল দায়িত্বে, কখনও ব্যক্তিগত মুহূর্তে। চিরন্তন ভালোবাসা এখানে, আজও, রাজনীতির ফ্রেমের মধ্যেই।

