রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ভারতের প্রতিরক্ষা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অসমের ৩৭ নম্বর জাতীয় সড়কে ভারতীয় বায়ুসেনার সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস যুদ্ধবিমানে চড়ে অবতরণ করেছেন। দেশের কৌশলগত নিরাপত্তার স্বার্থে এবং আপৎকালীন পরিস্থিতিতে জাতীয় সড়ককে কীভাবে রানওয়ে হিসেবে ব্যবহার করা যায়, সেই লক্ষ্যেই এই বিশেষ মহড়ার আয়োজন করা হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রীর এই অবতরণ কেবল একটি সফর নয়, বরং ভারতের সামরিক সক্ষমতা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের এক শক্তিশালী বার্তা বহন করে। এই মহড়ার মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হলো যে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বা যুদ্ধের সময়ে যদি মূল বিমানবন্দরের রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলো সহজেই যুদ্ধবিমান বা পণ্যবাহী বিমান ওঠা-নামার কাজে ব্যবহৃত হতে পারবে। বায়ুসেনার এই বিশালকার পরিবহন বিমানটি অত্যন্ত নিপুণতার সঙ্গে অসমের ওই নির্দিষ্ট ল্যান্ডিং স্ট্রিপে স্পর্শ করে, যা দেখার জন্য স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। প্রধানমন্ত্রী নিজে এই বিমানের যাত্রী হয়ে অবতরণ করে বায়ুসেনার সাহস ও দক্ষতার প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় এবং এই অঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় দ্রুত সেনা মোতায়েন ও রসদ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ধরণের পরিকাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সড়কপথকে এয়ারস্ট্রিপে রূপান্তরের এই প্রকল্পটি কেন্দ্রীয় সরকারের ‘গতি শক্তি’ মিশন এবং প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির এক সফল সমন্বয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। অসমের এই বিশেষ মহড়া কেবল প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ভারতের প্রস্তুতির বার্তা পৌঁছে দেয়নি, বরং দেশের প্রকৌশল ও সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই উপস্থিতিতে স্পষ্ট হয়েছে যে, আধুনিক ভারত তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমি থেকে আকাশ পর্যন্ত সমভাবে শক্তিশালী ও প্রযুক্তিনির্ভর। সমসাময়িক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে এই ধরণের পরিকাঠামো নির্মাণ এবং তার সফল পরীক্ষামূলক ব্যবহার দেশের প্রতিরক্ষা কবচকে আরও সুদৃঢ় করবে। এটি সাধারণ মানুষের মনে যেমন নিরাপত্তার অনুভূতি জোগাবে, তেমনই প্রতিকূল সময়ে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজেও এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

