রাতদিন ওয়েবডেস্ক : পুরুলিয়ার ঝালদা ২ নম্বর ব্লকের বেগুনকোদর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় সরকারি বরাদ্দের বিপুল অর্থ খরচ করে নির্মিত একটি শৌচাগার বর্তমানে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের বদলে অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়ায় পরিণত হয়েছে, যা স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আধুনিক শৌচাগারটি বর্তমানে ব্রাউন সুগার ও মদ্যপানের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর দাবি, কয়েক মাস আগে ঘটা করে এই শৌচাগারটি উদ্বোধন করা হলেও, এটি চালুর পর থেকেই যথাযথ তদারকির অভাবে তা কার্যত পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।
দিনের আলো কমলেই সেখানে বহিরাগত যুবকদের আনাগোনা শুরু হয় এবং মধ্যরাত পর্যন্ত চলে নেশার আসর। শৌচাগারের ভেতরে ও চারপাশে ছড়িয়ে থাকা মদের বোতল, সিগারেটের প্যাকেট এবং অন্যান্য মাদকদ্রব্যের অবশিষ্টাংশ এই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করে। এর ফলে এলাকার সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মহিলারা ওই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। জনবহুল এলাকায় সরকারি সম্পত্তির এমন অপচয় ও দুরবস্থা দেখে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী বারবার পঞ্চায়েত ও ব্লক প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি টাকা খরচ করে পরিকাঠামো তৈরি করা হলেও তা জনস্বার্থে কাজে লাগানো হচ্ছে না, বরং এই পরিকাঠামোই এখন এলাকার পরিবেশ কলুষিত করছে। যেখানে স্বচ্ছ ভারত অভিযানের নামে শৌচাগার ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, সেখানে ঝালদার এই চিত্রটি প্রশাসনের উদাসীনতার এক চরম উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। অবিলম্বে এই শৌচাগারটি সংস্কার করে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করা এবং সেখানে পুলিশের নিয়মিত টহলদারির দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা, যাতে পুনরায় সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় এবং সরকারি অর্থের সঠিক সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন এলাকার বিক্ষুব্ধ মানুষজন।

