রাতদিন ওয়েবডেস্ক : সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বজুড়ে হৃদরোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। হার্ট অ্যাটাকসহ নানা ধরনের হৃদরোগে মৃত্যুর হারও ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভাস, অনিয়মিত জীবনযাপন, মানসিক চাপ এবং শরীরচর্চার অভাবের কারণে অল্প বয়সিদের মধ্যেও হৃদরোগের ঝুঁকি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে খাদ্যাভাসে সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।চিকিৎসকদের একাংশের মতে, শুধু জাঙ্ক ফুড নয় প্রতিদিনের কিছু চেনা খাবারও হৃদপিণ্ডের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, যদিও সেগুলি অনেকের কাছেই ‘স্বাস্থ্যকর’ বলে পরিচিত।
এই ধরনের খাবার নিয়মিত খেলে ধীরে ধীরে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।এর মধ্যে অন্যতম হলো সিড অয়েল। সূর্যমুখী, সয়াবিন, ক্যানোলা বা কর্ন তেলকে অনেকেই স্বাস্থ্যকর মনে করেন। কিন্তু এই তেলগুলিতে ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি থাকে, যা শরীরে প্রদাহ বাড়াতে পারে। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত সেবনে ধমনীর ক্ষয় এবং হৃদরোগের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।কলাও সাধারণত পুষ্টিকর ফল হিসেবে পরিচিত। তবে এতে পটাসিয়ামের মাত্রা বেশি। যাঁদের কিডনির সমস্যা রয়েছে বা যাঁরা হৃদরোগের নির্দিষ্ট ওষুধ খান, তাঁদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পটাসিয়াম রক্তে জমে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।সয়া সস-এ সোডিয়ামের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি। অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীরে জল ধরে রাখে, ফলে রক্তচাপ বাড়তে পারে এবং হৃদপিণ্ডের উপর চাপ পড়ে। বিশেষ করে হার্টের সমস্যায় ভোগা মানুষের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ।ফ্লেভারড দই অনেকেই স্বাস্থ্যকর বিকল্প মনে করে খান। কিন্তু এতে অতিরিক্ত চিনি ও কৃত্রিম উপাদান থাকে, যা ওজন বৃদ্ধি এবং শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে।এছাড়াও প্রোটিন বারকে ফিটনেস খাবার হিসেবে প্রচার করা হলেও, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এতে প্রক্রিয়াজাত চিনি ও সিড অয়েল ব্যবহৃত হয়। এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখতে খাবার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে লেবেল পড়া এবং পরিমিতি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

