রাতদিন ওয়েবডেস্ক : অন্ত্রের স্বাস্থ্য ঠিক না থাকলে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় আমরা হঠাৎ পেট খারাপ, গ্যাস বা বদহজমকে ছোটখাটো সমস্যা হিসেবে নেন, কিন্তু এগুলো দীর্ঘস্থায়ী হলে তা অন্ত্রের প্রদাহের ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন, ছোটখাটো বিষয়গুলোও উপেক্ষা করলে পরবর্তীতে বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে।বারবার বদহজম বা অতিরিক্ত গ্যাস হওয়া অন্ত্রের প্রদাহের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম। খাবারের পর এই সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে থাকলে পুষ্টি ঠিকমতো শোষিত হয় না। এর ফলে শরীর দুর্বল হয়ে যায়, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায়।
পেটে ফোলাভাব এবং ক্রমাগত ব্যথাও সতর্ক হওয়ার বড় কারণ। বিশেষ করে হালকা খাবার খাওয়ার পরও যদি এই সমস্যা দেখা দেয়, তবে তা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার সংকেত। অনেক সময় সাধারণ ওষুধ বা ঘরোয়া পদ্ধতিতে এটি সাময়িকভাবে ঠিক হয়ে গেলেও মূল সমস্যা থেকে যায়।হঠাৎ ওজন কমে যাওয়াও অন্ত্রের প্রদাহের কারণে হতে পারে। অন্ত্রের প্রদাহ পুষ্টি শোষণে বাধা দেয়, যার কারণে শরীর পর্যাপ্ত ক্যালরি এবং ভিটামিন পায় না। নিয়মিত ওজন কমা বা খিদে কমে যাওয়ার মতো সমস্যা হলে তা গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত।অন্ত্রের স্বাস্থ্য শুধুমাত্র শরীরিকভাবেই প্রভাব ফেলে না, মানসিক অবস্থাকেও প্রভাবিত করে। পুষ্টি ঠিকমতো শোষিত না হলে সারাদিন ক্লান্তি, দুর্বলতা, অ্যালার্জি বা মেজাজ পরিবর্তনের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ত্বক শুষ্ক বা খসখসে হয়ে যাওয়া, চুল পড়া এবং ব্রণও অন্ত্রের প্রদাহের সঙ্গে যুক্ত।বিশেষজ্ঞরা প্রতিরোধের সহজ কিছু উপায়ও জানাচ্ছেন। প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনি ও তেলের পরিমাণ কমানো, বেশি ফাইবারযুক্ত খাবার যেমন ফল, সবজি ও শস্য খাওয়া, পর্যাপ্ত জল পান করা, নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুম নেওয়া জরুরি। এছাড়া মানসিক চাপ কমানো এবং প্রোবায়োটিক বা দই নিয়মিত খাওয়াও অন্ত্র সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।তবে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা দেখা দিলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছোট ছোট লক্ষণও উপেক্ষা না করে সতর্ক থাকলে অন্ত্র ও শরীর উভয়ই থাকবে সুস্থ। তাই পেটের সমস্যাকে কখনও হালকা হিসেবে দেখবেন না যত দ্রুত শনাক্ত করবেন, তত দ্রুত স্বাস্থ্য ঠিক রাখা সম্ভব।

