রাতদিন ওয়েবডেস্ক : বিশ্বজুড়ে ছানি রোগ এখন বড় স্বাস্থ্যসঙ্কটের আকার নিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, বর্তমানে পৃথিবীতে ৯ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ ছানিতে ভুগছেন। কিন্তু উদ্বেগের বিষয়, এদের প্রায় অর্ধেকই প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের সুযোগ পাচ্ছেন না। খবর এএফপি।ডব্লিউএইচও-র তথ্য অনুযায়ী, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চোখের লেন্স ধীরে ধীরে ঘোলা হয়ে যাওয়াকেই ছানি বলা হয়। সময়মতো চিকিৎসা না হলে এটি মারাত্মক দৃষ্টিশক্তিহানি এমনকি অন্ধত্বের কারণও হতে পারে। অথচ ছানি অপারেশন একটি অত্যন্ত সহজ, স্বল্পসময়ের এবং সাশ্রয়ী চিকিৎসা পদ্ধতি। সাধারণত ১৫ মিনিটের মধ্যেই এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা সম্ভব এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগী দ্রুত স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান।
সংস্থাটির চোখের যত্ন বিষয়ক কারিগরি প্রধান স্টুয়ার্ট কিল জানিয়েছেন, বিশ্বে বিপুলসংখ্যক মানুষের ছানি অপারেশন প্রয়োজন হলেও স্বাস্থ্যব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, দারিদ্র্য ও সচেতনতার অভাবে তারা চিকিৎসা পাচ্ছেন না। বিশেষ করে আফ্রিকা অঞ্চলে পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সেখানে যাদের অস্ত্রোপচার প্রয়োজন, প্রতি চার জনের মধ্যে তিন জনই চিকিৎসাবঞ্চিত থাকছেন।কিল আরও জানান, কেনিয়ায় ছানি অপারেশন প্রয়োজন এমন প্রায় ৭৭ শতাংশ মানুষ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা বা অন্ধত্ব নিয়েই জীবন কাটাচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকির মধ্যেও রয়েছেন। চিকিৎসা না পাওয়ার ফলে তাদের কর্মক্ষমতা কমে যাচ্ছে, জীবনের মানও অবনতি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি শুধু ব্যক্তিগত নয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে।ডব্লিউএইচও-র পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে পুরুষদের তুলনায় নারীরা কম চিকিৎসা সুবিধা পাচ্ছেন। লিঙ্গবৈষম্য, আর্থিক অসাম্য ও স্বাস্থ্যসেবায় সীমিত প্রবেশাধিকার এর অন্যতম কারণ। ফলে বিপুলসংখ্যক নারী অপ্রয়োজনীয়ভাবে দৃষ্টিশক্তিহানির শিকার হচ্ছেন।সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে ২০ শতাংশের কম সম্পূর্ণ অন্ধ হলেও অধিকাংশ মানুষ বিভিন্ন মাত্রার দৃষ্টিসমস্যায় ভুগছেন। সময়মতো অস্ত্রোপচার নিশ্চিত করা গেলে এই সমস্যা সহজেই সমাধান সম্ভব। তাই বিশ্বব্যাপী সুলভ ও সমতাভিত্তিক চক্ষুস্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে ডব্লিউএইচও।

