রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ভারতীয় অভিনেতা এবং পরিচালক রজত কপূর Rajat Kapoor বলিউডের মূলধারার চাকচিক্য থেকে দূরে থেকে নিজের এক স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন। সম্প্রতি তাঁর জীবনদর্শন এবং সিনেমা নির্মাণের ধরন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ চর্চা হচ্ছে। বিশেষ করে তাঁর নাস্তিকতা এবং ক্রাউডফান্ডিং Crowdfunding বা সাধারণ মানুষের থেকে টাকা তুলে সিনেমা বানানোর বিষয়টি দর্শকদের আগ্রহী করে তুলেছে। রজত কপূর বরাবরই স্পষ্টভাষী। তিনি প্রকাশ্যে নিজেকে নাস্তিক হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
কোনো ধর্মীয় রীতিনীতি বা ঈশ্বরবিশ্বাসে তাঁর ভরসা নেই। তাঁর মতে, যুক্তি এবং বাস্তবতাই জীবনের মূল চালিকাশক্তি। তাঁর পরিচালিত বিভিন্ন ছবিতেও এই যুক্তিবাদী চিন্তাধারার প্রতিফলন দেখা যায়, ক্রাউডফান্ডিং এবং স্বাধীন চলচ্চিত্র রজত কপূর মনে করেন, বড় প্রযোজনা সংস্থার অধীনে ছবি বানালে অনেক সময় সৃজনশীল স্বাধীনতা Creative Freedom ক্ষুণ্ণ হয়। তাই তিনি নিজের পছন্দের গল্প বলতে বেছে নিয়েছেন ক্রাউডফান্ডিং এর পথ, আঁখো দেখি Ankhon Dekhi বা আর কে/আর কেয়ানি RK/Rkay র মতো ছবিগুলো করার সময় তিনি সাধারণ মানুষের থেকে অনুদান সংগ্রহ করেছিলেন। ২০১৮ সালে তাঁর একটি সিনেমার জন্য তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিলেন এবং মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই বিশাল অংকের টাকা সংগৃহীত হয়েছিল। কত টাকা পারিশ্রমিক নেন রজত কপূর? রজত কপূরের পারিশ্রমিকের বিষয়টি বেশ বৈচিত্র্যময়। তিনি ঠিক কতটা টাকা পাবেন, তা নির্ভর করে প্রজেক্টের ধরনের ওপর অভিনেতা হিসেবে তিনি যখন দৃশ্যম কাপুর অ্যান্ড সন্স বা স্ক্যাম ২০২৩ এর মতো বড় বাজেটের সিনেমা বা ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেন, তখন তিনি বাজারদর অনুযায়ী কয়েক লক্ষ থেকে কোটি টাকার প্রজেক্ট ভেদে কাছাকাছি পারিশ্রমিক নেন। নিজের পরিচালিত ছবির ক্ষেত্রে তিনি অনেক সময় কোনো পারিশ্রমিকই নেন না। বরং ছবির লভ্যাংশ বা ক্রাউডফান্ডিং এর টাকা পুরোটাই সিনেমার গুণমান বজায় রাখতে খরচ করেন। তিনি থিয়েটারের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী। নাটকের ক্ষেত্রে পারিশ্রমিকের চেয়ে শিল্পের মর্যাদা তাঁর কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রজত কপূর প্রমাণ করেছেন যে, বড় স্টুডিওর সাহায্য ছাড়াও সদিচ্ছা থাকলে ভালো সিনেমা বানানো সম্ভব। তাঁর সাদামাটা জীবনযাপন এবং শিল্পের প্রতি দায়বদ্ধতা নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা।

