রাতদিন ওয়েবডেস্ক : আরব সাগরে ফের আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রকাশ্যে এল। মঙ্গলবার মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের একটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে আরব সাগরে মোতায়েন থাকা মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর আশপাশে। মার্কিন সেনার দাবি, ড্রোনটি রণতরীর দিকে দ্রুত এগিয়ে আসছিল এবং অকারণেই জাহাজটির চারপাশে ঘোরাফেরা করছিল। পরিস্থিতিকে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করেই প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, এফ ৩৫সি যুদ্ধবিমান থেকে গুলি চালিয়ে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়। সেনার বক্তব্য অনুযায়ী, ড্রোনটির আচরণ ছিল ‘আগ্রাসী’ এবং তা মার্কিন রণতরীর নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছিল। আরব সাগরে ইরানের গতিবিধির উপর নজরদারি চালাতেই ওই অঞ্চলে আব্রাহাম লিঙ্কন রণতরী মোতায়েন রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।এই সামরিক ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার বোঝাপড়া চলছে। যদিও ঠিক কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য দেননি ট্রাম্প।
ট্রাম্প বলেন, অতীতেও ইরানের কাছে সমঝোতার সুযোগ ছিল, কিন্তু সেই সুযোগ তারা কাজে লাগায়নি। তাঁর মতে, ইরানে সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযানের পুনরাবৃত্তি ইরান চাইবে না বলেই এখন আলোচনায় আগ্রহী হয়েছে তেহরান। “আমার ধারণা, তারা আর সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে চায় না। তাই এখন বোঝাপড়ার পথে হাঁটছে,” মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।বিশ্লেষকদের মতে, এক দিকে সামরিক শক্তি প্রদর্শন, অন্য দিকে আলোচনার ইঙ্গিত এই দ্বৈত নীতিই বর্তমানে আমেরিকা-ইরান সম্পর্কের বৈশিষ্ট্য। আরব সাগরে ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। তবে একই সঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের দরজাও আপাতত পুরোপুরি বন্ধ করেনি।

