রাতদিন ওয়েবডেস্ক : প্রাগৈতিহাসিক পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় স্তলচর প্রাণী হিসেবে পরিচিত ছিল লম্বা গলার সরোপড ডাইনোসরেরা। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণা এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে। জানা গেছে, পূর্ণবয়স্ক অবস্থায় অপরাজেয় হলেও, শৈশবে এই দানবীয় প্রাণীদের জীবন ছিল অত্যন্ত সংকটাপন্ন। জুরাসিক যুগের খাদ্যশৃঙ্খলে এই সরোপড শাবকেরাই ছিল হিংস্র মাংসাশী ডাইনোসরদের প্রধান খাদ্য।ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের জীবাশ্মবিদ ক্যাসিয়াস মরিসন এবং তাঁর গবেষক দল আমেরিকার কলোরাডো অঞ্চলে পাওয়া জীবাশ্মের ওপর ভিত্তি করে এই গবেষণাটি চালিয়েছেন।
প্রায় ১৫ কোটি বছর আগের জুরাসিক যুগের শেষ পর্বের এই জীবাশ্মগুলি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সে সময়ের বাস্তুতন্ত্রে সরোপড শাবকদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তবে তা শিকারি হিসেবে নয়, বরং শিকার হিসেবে। গবেষণায় দেখা গেছে, ডিপ্লোডোকাস বা ব্র্যাকিওসরাসের মতো ডাইনোসরেরা পূর্ণবয়স্ক অবস্থায় নীল তিমির চেয়েও বড় আকার ধারণ করত। কিন্তু তাদের ডিমের আকার ছিল মাত্র এক ফুট। ডিম ফুটে বেরোনোর পর এই ছোট শাবকগুলি ছিল অত্যন্ত অসহায়। গবেষক মরিসনের মতে, বিশালাকার মা-বাবার পক্ষে এই ছোট সন্তানদের দেখাশোনা করা প্রায় অসম্ভব ছিল। ফলে শৈশব থেকেই এই শাবকেরা চরম অবহেলায় এবং অরক্ষিত অবস্থায় বেড়ে উঠত।অ্যালোসরাসের মতো সমসাময়িক হিংস্র মাংসাশী ডাইনোসরেরা মূলত এই সহজলভ্য সরোপড শাবকদের শিকার করেই জীবনধারণ করত।
যদিও সে সময় স্টেগোসরাসের মতো অন্যান্য তৃণভোজী প্রাণী ছিল, কিন্তু তাদের গায়ের শক্ত বর্ম বা কাঁটা ভেদ করে শিকার করা ছিল কঠিন। সেই তুলনায় নরম চামড়ার সরোপড শাবকেরা ছিল শিকারিদের জন্য আদর্শ পুষ্টির উৎস। জীবাশ্মের দাঁতের গঠন, পাকস্থলীর অবশেষ এবং আইসোটোপ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, জুরাসিক যুগের খাদ্যশৃঙ্খলে উদ্ভিদ এবং মাংসাশীদের মধ্যে সেতুবন্ধনকারী প্রধান উপাদান ছিল এই বিশালকায় প্রাণীদের অসহায় ছোট শাবকগুলো। এই গবেষণা প্রাগৈতিহাসিক পৃথিবীর বাস্তুসংস্থান সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের পুরনো ধারণাকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে।

