রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এল। ওড়িশার চাঁদিপুর উপকূল থেকে মঙ্গলবার সফল ভাবে পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হল র্যামজেট শক্তিসম্পন্ন একটি আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা ডিআরডিও জানিয়েছে, উৎক্ষেপণের সময় ক্ষেপণাস্ত্রটির সমস্ত প্রযুক্তিগত ধাপ নিখুঁত ভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং নির্ধারিত লক্ষ্য অনুযায়ী পরীক্ষাটি সফল হয়েছে।ডিআরডিও সূত্রে খবর, এই ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহৃত হয়েছে ‘সলিড ফুয়েল ডাক্টেড র্যামজেট’ প্রযুক্তি, যা সুপারসনিক গতিসম্পন্ন অস্ত্রের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর।
এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল, এতে কোনও জটিল টার্বাইন ব্যবস্থার প্রয়োজন হয় না। ফলে ক্ষেপণাস্ত্রটি তুলনামূলক ভাবে হালকা হয় এবং দীর্ঘ দূরত্বে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে শত্রুপক্ষের বিমান বা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়।র্যামজেট ইঞ্জিনের কার্যপদ্ধতিও অত্যন্ত আধুনিক। সামনের দিক থেকে প্রবাহিত বায়ুকে তীব্র গতিতে টেনে নিয়ে সেই বায়ুকেই জ্বালানির সঙ্গে ব্যবহার করে ‘থ্রাস্ট’ তৈরি করা হয়। এর ফলে ক্ষেপণাস্ত্রটির গতি ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা অনেকটাই বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা কয়েক গুণ বাড়াতে পারে।মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে চাঁদিপুরের উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করা হয়।
পরীক্ষার পর ডিআরডিও জানায়, নির্ধারিত সমস্ত মানদণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্রটি সফল ভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে। বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশের কাছেই এই ধরনের র্যামজেট প্রযুক্তি রয়েছে। সেই তালিকায় ভারতের নাম যুক্ত হওয়াকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বড় সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।অপারেশন সিঁদুর এবং সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার পর দেশের আকাশ ও সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করার উপর জোর দিয়েছে কেন্দ্র। এরই অংশ হিসেবে ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে করা হয়েছে ৭.৮৫ লক্ষ কোটি টাকা। ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রকে হাইপারসনিক পর্যায়ে উন্নীত করার পাশাপাশি র্যামজেট প্রযুক্তির সফল পরীক্ষা ভারতের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল বলেই মনে করছেন।

