Type Here to Get Search Results !

TMC To Start Impeachment : মুখ্য নির্বাচনী কমিশনারের ইমপিচমেন্টের পথে তৃণমূল বিরোধী দলগুলির সঙ্গে আলোচনার ভাবনা জোড়াফুলের।

রাতদিন ওয়েবডেস্ক : জাতীয় রাজনীতির অলিন্দে ফের সংঘাতের আবহ। ভারতের মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট বা অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। সূত্রের খবর, লোকসভা নির্বাচন পরবর্তী বিভিন্ন অভিযোগ এবং সাম্প্রতিক কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতেই এই চরম পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই দিল্লির রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় কেবল একা নয় বরং ইন্ডিয়া জোটের অন্যান্য শরিক দল এবং সমমনোভাবাপন্ন বিরোধী দলগুলিকেও পাশে পেতে চাইছে তারা। সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে বা তার আগে এই বিষয়ে একটি বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে ঘাসফুল শিবির। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের মতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে নির্বাচনের নির্ঘণ্ট তৈরি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যবহার এবং বিরোধীদের অভিযোগের গুরুত্ব না দেওয়ার মতো বিষয়গুলি নিয়ে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়েছে। 

তৃণমূলের অভিযোগ, বর্তমান মুখ্য নির্বাচনী কমিশনারের অধীনে নির্বাচন কমিশন তার স্বকীয়তা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটি স্বাধীন সংস্থার যে ভূমিকা হওয়া উচিত, সেখানে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে বলে দাবি জোড়াফুলের নেতাদের। এই কারণেই সাংবিধানিক পথ মেনে অভিশংসন বা ইমপিচমেন্টের প্রক্রিয়া শুরু করতে চাইছে তারা। উল্লেখ্য, ভারতের সংবিধানে কোনো নির্বাচন কমিশনারকে পদ থেকে সরানো বেশ জটিল প্রক্রিয়া। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির মতোই তাঁদের সংসদীয় পদ্ধতিতে ইমপিচমেন্টের মাধ্যমে সরানো যায়। এর জন্য লোকসভা বা রাজ্যসভায় নির্দিষ্ট সংখ্যক সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন এবং ভোটাভুটিতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা বাধ্যতামূলক। 

সংখ্যার বিচারে এটি কঠিন হলেও, রাজনৈতিকভাবে বিজেপি তথা কেন্দ্র সরকারকে চাপে রাখতেই তৃণমূল এই কৌশল অবলম্বন করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন দেখার, কংগ্রেস, ডিএমকে বা সমাজবাদী পার্টির মতো বিরোধী দলগুলি তৃণমূলের এই প্রস্তাবে কতটা সাড়া দেয়। যদি বিরোধীরা একজোট হয়ে এই পথে হাঁটে, তবে জাতীয় রাজনীতিতে কেন্দ্রের মোদী সরকারের ওপর চাপ যে কয়েকগুণ বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য। তৃণমূলের এই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয় কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের। 

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad