Type Here to Get Search Results !

Donald Trump : ট্রাম্পের হস্থক্ষেপ না থাকলে মারা যেতেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

রাতদিন ওয়েবডেস্ক : দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সাম্প্রতিক সামরিক উত্তজনা চলাকালীন তাঁর হস্তক্ষেপ না থাকলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ প্রাণ হারাতে পারতেন। ওয়াশিংটনের ক্যাপিটলে এক বক্তৃতায় ট্রাম্প অত্যন্ত সোজাসাপ্টা ভাষায় জানান যে, গত বছরের মে মাসে শুরু হওয়া চার দিনের ‘সিঁদুর অভিযান’ এবং তৎপরবর্তী ভারত-পাক সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি এমন এক চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে দুই দেশই পরমাণু যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার উপক্রম করেছিল। 

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, সেই ভয়াবহ সংঘাতের মুহূর্তে তিনি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগী হয়ে মধ্যস্থতা না করলে পাকিস্তান এক অস্তিত্ব সংকটে পড়ত এবং শাহবাজ শরিফ ব্যক্তিগতভাবে বিপন্ন হতেন। যদিও ভারত বরাবরই এই দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে কোনো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে, তবে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই ভূমিকার প্রতি ইতিবাচক ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যে কার্যত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, ওই চার দিনের সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীব্র যুদ্ধে পাকিস্তানের অবস্থান মোটেই সুবিধাজনক ছিল না। উল্লেখ্য যে, সুইৎজ়ারল্যান্ডের একটি গবেষণা সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের বিমানবাহিনীর আকাশপথের ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য এবং কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্বের কারণেই পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি চাইতে বাধ্য হয়েছিল। ট্রাম্প তাঁর বক্তৃতায় আরও উল্লেখ করেন যে, সেই সময় বহু মানুষ তাঁকে বলেছিলেন তাঁর হস্তক্ষেপ ছাড়া পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর রক্ষা পাওয়া অসম্ভব ছিল। 

এর আগেও ট্রাম্প বিভিন্ন সময় এই সংঘাত নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য দিলেও, ক্যাপিটলে তাঁর সর্বশেষ এই বক্তব্য শাহবাজ শরিফ ও ইসলামাবাদকে আন্তর্জাতিক মহলে চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে। ট্রাম্পের মতে, ওই সময়ে ভারতের সামরিক তৎপরতা এতটাই বিধ্বংসী ছিল যে প্রায় ১১টি যুদ্ধবিমান ধ্বংসের খবরও সামনে এসেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ভারসাম্য ভারতের দিকেই হেলে থাকার ইঙ্গিত দেয়। ট্রাম্পের এই ‘রক্ষাকর্তা’ সুলভ দাবি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যেখানে বিরোধী পক্ষ এখন শাহবাজ সরকারের সার্বভৌমত্ব ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বিস্ফোরক দাবি এটাই প্রমাণ করে যে, ট্রাম্প নিজের পররাষ্ট্রনীতিকে কতটা প্রভাবশালী হিসেবে দেখাতে চাইছেন এবং কীভাবে দক্ষিণ এশিয়ার স্পর্শকাতর ইস্যুগুলোকে নিজের রাজনৈতিক প্রচারের অংশ করে নিচ্ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার কূটনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad