Type Here to Get Search Results !

Dollarization 2.0 : স্টেবলকয়েনের হাত ধরে ডলারাইজেশন ২.০,নাইজেরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরছে ডলারের দাপট

রাতদিন ওয়েবডেস্ক : বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতিতে যখন মার্কিন ডলারের একাধিপত্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এবং ভারত, চীন ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নিজস্ব মুদ্রার ব্যবহার বাড়িয়ে ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই আফ্রিকার দুই শক্তিশালী অর্থনীতি নাইজেরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এক উলটপুরাণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে যা অর্থনীতিবিদদের কাছে ডলারাইজেশন ২.০ নামে পরিচিতি পেয়েছে। বিশ্বজুড়ে ডলার যখন কিছুটা কোণঠাসা, তখন আফ্রিকার এই দেশগুলোতে ডিজিটাল কারেন্সি বা স্টেবলকয়েন-এর ব্যাপক প্রসার আদতে মার্কিন মুদ্রাটিকেই পরোক্ষভাবে অক্সিজেন দিচ্ছে। 

স্টেবলকয়েন হলো এক বিশেষ ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি যার বাজারমূল্য সরাসরি মার্কিন ডলারের সাথে যুক্ত করা থাকে, ফলে বিটকয়েনের মতো উদ্বায়ী হওয়ার বদলে এটি অনেক বেশি স্থিতিশীল। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতেই বিশ্ববাজারে স্টেবলকয়েনের মোট মূল্য ৩০ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে এবং এই বিশাল অংকের পেছনে মূল কারিগর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে নাইজেরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। নাইজেরিয়ার স্থানীয় মুদ্রা নাইরা-র মান ডলারের বিপরীতে আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাওয়ায় এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে জনজীবনে নাভিশ্বাস ওঠায় সেদেশের মানুষ এখন স্থানীয় মুদ্রার চেয়ে ডিজিটাল ডলার বা স্টেবলকয়েনেই বেশি ভরসা পাচ্ছেন। বর্তমানে নাইজেরিয়ার প্রায় ৯৫ শতাংশ ব্যবসায়ী এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রায় ৮০ শতাংশ নাগরিক স্টেবলকয়েন ব্যবহার করছেন, এমনকি বহু বেসরকারি সংস্থা এখন কর্মীদের বেতনও দিচ্ছেন এই ক্রিপ্টো মুদ্রায়। নাইজেরিয়ার মুদ্রা বাজার এতটাই অস্থিতিশীল যে বর্তমানে এক ডলারের বিপরীতে নাইরার মান ১,৩০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে, যা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন করছে। এই সংকট থেকে বাঁচতে এবং সম্পদের মূল্য ধরে রাখতে আমজনতা গণহারে স্টেবলকয়েন কিনছেন। 

যদিও দক্ষিণ আফ্রিকার রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর লেসেতজা কাগানিয়াগো সতর্ক করেছেন যে, অর্থনীতি পুরোপুরি এই ডিজিটাল মুদ্রার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে, কারণ এতে পরোক্ষভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ বেড়ে যায়। তা সত্ত্বেও প্রযুক্তিগত সুবিধা এবং মূল্যের স্থিতিশীলতার কারণে স্টেবলকয়েন এখন আফ্রিকার ডিজিটাল অর্থনীতির মেরুদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সরাসরি পেমেন্ট গেটওয়ে বা এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে লেনদেন করার সুবিধা থাকায় সাধারণ মানুষ প্রথাগত ব্যাংকিংয়ের বদলে ডিজিটাল ওয়ালেটেই বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এই প্রবণতা শুধু যে ডলারের চাহিদাকে বিশ্ববাজারে পুনরায় চাঙ্গা করছে তাই নয়, বরং ডিজিটাল অর্থনীতির একটি নতুন অধ্যায় সূচিত করছে যেখানে ভৌগোলিক সীমানা ছাপিয়ে মার্কিন ডলার ভিন্ন রূপে বা ভার্চুয়াল অবতারে নিজের আধিপত্য বজায় রাখছে। আফ্রিকার এই দুই দেশের উদাহরণ এখন উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এক বিশেষ বার্তাবহ, যেখানে স্থানীয় মুদ্রার দুর্বলতা এবং প্রযুক্তির অগ্রগতি মিলেমিশে এক নতুন অর্থনৈতিক সমীকরণ তৈরি করছে যাকে বিশেষজ্ঞরা ডলারের দ্বিতীয় জন্ম বা ডলারাইজেশন ২.০ হিসেবেই অভিহিত করছেন।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad