Type Here to Get Search Results !

Dilip Ghosh : দলের আগেই প্রার্থীর নাম ঘোষণা! বাঁকুড়ায় নতুন বিতর্কে দিলীপ ঘোষ

রাতদিন ওয়েবডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতে এখনও কিছুটা সময় বাকি থাকলেও, রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। এই উত্তপ্ত আবহের মধ্যেই ফের একবার বিস্ফোরক মন্তব্য ও পদক্ষেপের মাধ্যমে খবরের শিরোনামে উঠে এলেন বঙ্গ বিজেপির প্রবীণ নেতা তথা প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। দলের কেন্দ্রীয় বা রাজ্য নেতৃত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার আগেই বাঁকুড়া বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিয়ে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিলেন তিনি। 

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাঁকুড়া শহর সংলগ্ন ধলডাঙ্গা মোড়ে আয়োজিত একটি দলীয় কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখার সময় দিলীপ ঘোষ দাবি করেন যে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হচ্ছেন বর্তমান বিদায়ী বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা। তাঁর এই আগাম ঘোষণায় দলের অন্দরে যেমন অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তেমনই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। সাধারণত বিজেপির মতো সুশৃঙ্খল দলে প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করে কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কমিটি এবং তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় দিল্লি বা রাজ্য সদর দপ্তর থেকে। কিন্তু সেই প্রথা ভেঙে দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যকে অনেকেই দলের শৃঙ্খলার পরিপন্থী হিসেবে দেখছেন। যদিও নিজের বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন যে, নীলাদ্রিশেখর দানা বর্তমানে ওই কেন্দ্রের বিধায়ক এবং সাধারণত খুব বড় কোনো কারণ না থাকলে দল জেতা আসনে প্রার্থী বদল করে না, তাই তিনি তাঁর নাম উল্লেখ করেছেন। এই সভায় তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে আরও দাবি করেন যে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিই সরকার গঠন করতে চলেছে। অন্যদিকে, যাঁর নাম নিয়ে এই বিতর্ক, সেই বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা অবশ্য যথেষ্ট সতর্ক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। 

তিনি জানিয়েছেন যে, প্রার্থী পদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দল এবং শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার বা দিলীপ ঘোষের মতো অভিজ্ঞ নেতারাই তা ঠিক করবেন। উল্লেখ্য, বিজেপি সূত্রে জানা গেছে যে এবার প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দল অত্যন্ত সতর্ক এবং তিন ধাপে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। মণ্ডল ও জেলা স্তরের সুপারিশের পাশাপাশি পেশাদার সমীক্ষক সংস্থার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য অন্তত তিনটি করে নাম বাছাই করা হচ্ছে, যার ওপর চূড়ান্ত সিলমোহর দেবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এমন এক কঠোর প্রক্রিয়ার মাঝখানে দিলীপ ঘোষের এই একক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণকে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিরোধীরাও এই সুযোগে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি, তাদের মতে বিজেপির অন্দরে সমন্বয়ের অভাব এই ঘটনার মাধ্যমেই স্পষ্ট। সব মিলিয়ে, ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের আগেই দিলীপ ঘোষের এই ‘প্রার্থী ঘোষণা’ বাঁকুড়া তথা গোটা রাজ্যের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল, যা আগামী দিনে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে কোনো বড় রদবদলের ইঙ্গিত কি না, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad