Type Here to Get Search Results !

Cats DNA : বিড়ালের জিনেই কি লুকিয়ে ক্যানসার মুক্তির চাবিকাঠি? গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য

রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ক্যানসার গবেষণায় এক বৈপ্লবিক দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে বিড়ালের ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে, যা ভবিষ্যতে মানুষের মারণরোগ নিরাময়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। এতদিন সাধারণত ইঁদুরের ওপর ক্যানসার নিয়ে গবেষণা চালানো হলেও, কেমব্রিজের ওয়েলকাম স্যাঙ্গার ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে যে মানুষের ক্যানসার কোষের সঙ্গে বিড়ালের জিনের আশ্চর্য মিল রয়েছে। ১৩টি ভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৫০০টি বিড়ালের ওপর চালানো এই গবেষণায় দেখা গেছে যে, মানুষের শরীরে ক্যানসারের জন্য দায়ী নির্দিষ্ট জেনেটিক মিউটেশন বা পরিবর্তনগুলোর সঙ্গে বিড়ালের শরীরে ঘটা পরিবর্তনের গভীর সাদৃশ্য বর্তমান। 

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, মানুষের শরীরে অন্তত ১৩ ধরনের ক্যানসার জিনের সঙ্গে বিড়ালের জিনের গঠনগত মিল পাওয়া গিয়েছে, বিশেষ করে স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে এই মিল অত্যন্ত প্রকট। গবেষণায় দেখা গেছে, স্তন ক্যানসারের জন্য দায়ী ১০০টি জিনের মধ্যে ১৫টি জিন সরাসরি বিড়ালের জিনের সাথে মিলে যায় উদাহরণস্বরূপ, বিড়ালের শরীরে থাকা ‘এফবিএক্সডব্লিউ৭’ এবং মানুষের ক্যানসার কোষে পাওয়া ‘টিপি৫৩’ জিনের কার্যক্রম প্রায় একই রকম। ইঁদুরের ক্ষেত্রে ক্যানসার কৃত্রিমভাবে তৈরি করে পরীক্ষা করা হয়, কিন্তু বিড়ালের শরীরে এই ক্যানসার সৃষ্টিকারী জিনগুলো প্রাকৃতিকভাবেই বিদ্যমান থাকে, যা গবেষণার ফলাফলকে আরও নির্ভুল ও ফলপ্রসূ করে তোলে। বিড়ালের শরীরে ক্যানসার হলে জিনের যে রাসায়নিক বদল ঘটে, মানুষের ক্ষেত্রেও তার কোনো ব্যতিক্রম হয় না। এই সাদৃশ্যকে কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞানীরা এখন বিড়ালের জিনের তথ্য বিশ্লেষণ করে মানুষের ক্যানসার প্রতিরোধের নতুন উপায় এবং ঔষধ তৈরির চেষ্টা করছেন। গবেষকদের মতে, পোষ্য বিড়ালের জিনগত পাঠোদ্ধার সম্ভব হলে তা কেবল বিড়ালদের চিকিৎসায় নয়, বরং মানবদেহের জটিল টিউমার এবং ক্যানসার কোষ রুখে দেওয়ার ক্ষেত্রে এক বিশাল মাইলফলক হয়ে দাঁড়াবে। প্রাকৃতিকভাবে বিড়ালের শরীরে ক্যানসার হওয়ার প্রক্রিয়াটি মানুষের সাথে সমান্তরাল হওয়ায়, জিনের এই পরিবর্তন কীভাবে আটকানো যায় তা বুঝতে পারলে ক্যানসার নিরাময়ের একটি স্থায়ী সমাধান পাওয়া যেতে পারে। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই নয়া মোড় আগামী দিনে ক্যানসার রোগীদের জন্য এক নতুন আশার আলো হয়ে দেখা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে, যেখানে আমাদের অতি পরিচিত পোষ্য প্রাণিটিই হয়ে উঠতে পারে প্রাণঘাতী রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রধান হাতিয়ার।

Tags

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad