রাতদিন ওয়েবডেস্ক : বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনের ভোট গণনা ও ফলাফল প্রকাশের প্রক্রিয়া ঘিরে রাজপথের বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে চরম উত্তেজনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া। নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল আসতে শুরু করতেই দেখা যাচ্ছে যে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের আসন সংখ্যা গতবারের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সত্ত্বেও নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ভোট গণনার প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে জামাতে ইসলামীসহ জোটের শরিক দলগুলো। তাদের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভোট গণনার সময় ব্যাপক কারচুপি ও অনিয়ম হয়েছে, যার ফলে জনগণের প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন ঘটেনি।
বিরোধী শিবিরের দাবি, অনেক কেন্দ্রে তাদের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে এবং প্রশাসনের সহায়তায় ফলাফল পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে জামাত নেতারা অভিযোগ তুলেছেন যে, নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং অফিসারদের কার্যপদ্ধতি একপাক্ষিক, যা একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের আসন বৃদ্ধির খবর সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা আশার আলো দেখালেও সামগ্রিক নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে তারা সন্দিহান। আন্তর্জাতিক মহলের পর্যবেক্ষণ ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এই ফলাফল শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতিকে কোন পথে নিয়ে যায়, তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক জল্পনা চলছে। ভোটারদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, যদি গণনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করা হয়, তবে এই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়বে। সব মিলিয়ে, একদিকে আসন জয়ের লড়াই আর অন্যদিকে ভোট চুরির অভিযোগ এই দুই মেরুর টানাপোড়েনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশ এখন মেঘাচ্ছন্ন। বিরোধী দলগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, গণনায় কারচুপি বন্ধ না হলে তারা এই নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবে না এবং আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচির পথে হাঁটবে। আপাতত পুরো দেশ তাকিয়ে আছে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ঘোষণার দিকে, যা নির্ধারণ করবে আগামী দিনের শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা।

