রাতদিন ওয়েবডেস্ক : রোজ় ভ্যালি কাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ‘সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিস’ এসএফআইওএর ভূমিকা এবং আদালতের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অর্থলগ্নি সংস্থা রোজ় ভ্যালির বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে আমানতকারীদের বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে গঠিত ‘অ্যাসেট ডিসপোজ়াল কমিটি’ এডিসির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং সম্পত্তি কেনাবেচার স্বচ্ছতা যাচাই করতে আগেই ফরেন্সিক অডিটের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। তবে বৃহস্পতিবার বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ এবং বিচারপতি উদয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানিতে এসএফআইওর পক্ষ থেকে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত চার সপ্তাহ সময় চেয়ে আবেদন করা হয়।
কেন্দ্রের কৌঁসুলি আদালতকে জানান যে, সংশ্লিষ্ট রিপোর্টের বিষয়ে কেন্দ্রীয় কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রক এখনও পর্যন্ত কোনও সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রদান করেনি, যার ফলে অডিট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বিলম্ব হচ্ছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই ফরেন্সিক অডিট রিপোর্ট জমা দিতে দেরি হলে সামগ্রিক সম্পত্তি বিক্রির প্রক্রিয়াটি থমকে যাবে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সাধারণ আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর ওপর। দীর্ঘদিনের অপেক্ষায় থাকা আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে আদালত কিছুটা কড়া অবস্থান নিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, আগামী ১২ মার্চের মধ্যে এসএফআইও কে অডিটের বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে এবং ওই দিনই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। যদিও এই দীর্ঘসূত্রতার মাঝে কিছুটা আশার আলো শুনিয়েছেন এডিসির আইনজীবী। তিনি আদালতকে জানিয়েছেন যে, কমিটি ইতিমধ্যেই সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং গত জানুয়ারি মাসে তিন দফায় আমানতকারীদের পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। হাই কোর্টের মূল উদ্দেশ্য হলো, এসএফআইওর মাধ্যমে লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে যত দ্রুত সম্ভব রোজ় ভ্যালির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রির আইনি বাধা দূর করা এবং সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ ফিরিয়ে দেওয়ার পথ প্রশস্ত করা। ১২ মার্চের শুনানিতে কেন্দ্রীয় সংস্থা কী রিপোর্ট পেশ করে এবং আদালত পরবর্তী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে হাজার হাজার প্রতারিত আমানতকারী।

