রাতদিন ওয়েবডেস্ক : বর্তমানে বিশ্বজুড়ে হাম ও পক্সের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণত ঋতু পরিবর্তনের সময়, বিশেষ করে শীতের শেষে এবং বসন্তের শুরুতে চিকেন পক্সের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা দিলেও, বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে এখন যেকোনো সময়েই এই রোগ হতে পারে। চিকেন পক্স মূলত ভ্যারিসেল্লা জুস্টার নামক ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায়। এই রোগটি অত্যন্ত সংক্রামক সাধারণত লক্ষণ প্রকাশের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে পরবর্তী ১৫ দিন পর্যন্ত এটি অন্যের শরীরে ছড়াতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, ৫ থেকে ১০ বছরের শিশুদের মধ্যে এই রোগের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে, তবে ৬ মাসের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে ভর্তি করা জরুরি। রোগের শুরুতে সাধারণত হালকা জ্বর ও শরীরে ব্যথা অনুভূত হয়।
পরবর্তী দু তিন দিনের মধ্যে জ্বরের মাত্রা বাড়ে এবং সারা শরীরে জলভরা ফোস্কার মতো লালচে র্যাশ দেখা দেয়। এই ফোস্কাগুলোর ভিতরের রস ঘন হয়ে পুঁজের মতো হয় এবং ৭ থেকে ১০ দিন পর তা শুকিয়ে খোসা উঠতে শুরু করে। এই সময়টি রোগীর জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক ও চুলকানিযুক্ত হয়। পক্স আক্রান্ত শিশুর যত্নে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং তাকে নিভৃতবাসে রাখা একান্ত প্রয়োজন। শিশুকে পর্যাপ্ত আলো বাতাসযুক্ত ঘরে রাখা উচিত এবং খেয়াল রাখতে হবে যেন কোনোভাবেই ঠান্ডা না লাগে, কারণ এই সময়ে নিউমোনিয়া বা ব্রঙ্কাইটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়।খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে শিশুকে বেশি করে ফোটানো জল, টাটকা ফল এবং কম তেল মশলাযুক্ত সহজপাচ্য খাবার যেমন সবজি বা চিকেন স্ট্যু দেওয়া উচিত। বাইরের জাঙ্ক ফুড পুরোপুরি বর্জন করা জরুরি। যেহেতু থুতু বা লালার মাধ্যমেও এই ভাইরাস ছড়ায়, তাই রোগীর ব্যবহৃত পোশাক ও অন্যান্য জিনিসপত্র আলাদা রাখা প্রয়োজন। মনে রাখা দরকার, পক্সের তীব্রতা কমাতে চিকিৎসকরা অনেক সময় অ্যান্টিভাইরাল বা অন্যান্য ওষুধ দিয়ে থাকেন, তবে কোনো অবস্থাতেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে ওষুধ খাওয়ানো উচিত নয়। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ এবং সতর্কতা অবলম্বন করলে এই কষ্টদায়ক রোগ থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

