Type Here to Get Search Results !

Infrastructure Crisis : স্কুল যেন রেশনের দোকান! প্রকল্পের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার নূন্যতম পরিকাঠামো

রাতদিন ওয়েবডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের সরকারি স্কুলগুলোর বর্তমান চিত্রটি অত্যন্ত স্ববিরোধী একদিকে যখন ছাত্রছাত্রীদের জন্য ‘সবুজ সাথী’, ‘তরুণের স্বপ্ন’ ট্যাব, ‘কন্যাশ্রী’, ‘ঐক্যশ্রী’ বা ‘স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট অ্যান্ড মিনস’ এর মতো জনমুখী প্রকল্পের ছড়াছড়ি, অন্যদিকে স্কুলগুলোর নিজস্ব পরিকাঠামো আজ চরম সংকটে। রাজারহাটের দুই নবম শ্রেণির ছাত্রের সাইকেলে চড়ে স্কুলে যাওয়ার স্বাচ্ছন্দ্য যেমন সত্যি, তেমনি শিক্ষকদের আক্ষেপও সমান বাস্তব যে, স্কুলগুলো যেন আজ ‘রেশনের দোকানে’ পরিণত হয়েছে। বিকাশ ভবন থেকে ছাত্রছাত্রীদের সরাসরি আর্থিক সুবিধা দেওয়ার ওপর যতটা জোর দেওয়া হয়, স্কুলের নূন্যতম পরিচালন খরচ বা ‘কম্পোজ়িট গ্রান্ট’-এর ক্ষেত্রে ততটাই অনীহা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। 

নিয়ম অনুযায়ী, স্কুলগুলোতে চক-ডাস্টার কেনা থেকে শুরু করে রক্ষীর বেতন, বিদ্যুতের বিল এবং পরীক্ষা পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের যৌথ তহবিলের গ্রান্ট পাওয়ার কথা, কিন্তু সেই টাকা এখন অনিয়মিত এবং নামমাত্র। কোভিড পরবর্তী সময়ে অনেক স্কুল তাদের প্রাপ্য বরাদ্দের মাত্র ২৫ শতাংশ হাতে পেয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শিক্ষক নিয়োগের দীর্ঘস্থায়ী শূন্যতা  ২০১৬ সালের প্যানেল বাতিল হওয়ার পর নতুন নিয়োগ না হওয়ায় স্কুলগুলো বাধ্য হয়ে নিজেদের উদ্যোগে আংশিক সময়ের শিক্ষক নিয়োগ করছে, যাঁদের বেতন দিতে অনেক সময় বর্তমান শিক্ষকদের নিজেদের পকেট থেকে টাকা দিতে হচ্ছে। শিক্ষানুরাগী ও শিক্ষক সংগঠনগুলোর মতে, ২০১১ সাল থেকে মাসিক বেতন মাত্র ২০ টাকায় বেঁধে দেওয়ায় স্কুলের নিজস্ব আয়ের পথও বন্ধ। এই পরিস্থিতিতে বই দিবস, বৃক্ষরোপণ বা স্বাধীনতা দিবসের মতো সরকারি কর্মসূচি পালন করাও স্কুলের তহবিলের অভাবে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকটের মূলে রয়েছে কেন্দ্র ও রাজ্যের রাজনৈতিক সংঘাত, যার ফলে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে কেন্দ্রীয় সরকার তাদের ভাগের টাকা দেওয়া বন্ধ রেখেছে। ফলস্বরূপ, ছাত্রছাত্রীরা ব্যক্তিগতভাবে প্রকল্পের সুবিধা পেলেও, যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তারা মানুষ হচ্ছে, সেই স্কুলগুলোই আজ ধুঁকছে উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও অর্থাভাবে। শিক্ষা ব্যবস্থার এই সামগ্রিক দৈন্যদশা ঘোচাতে হলে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত প্রকল্পের চমক নয়, বরং স্কুলগুলোর পরিকাঠামো রক্ষা করাও যে সমান জরুরি, বর্তমান পরিস্থিতি সেই প্রশ্নই বড় করে তুলে ধরছে। 

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad