রাতদিন ওয়েবডেস্ক : বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টার পর ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এবং গণভোটের গণনা শুরু হয়।বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম রাত ১১টা পর্যন্ত ১২৯টি আসনের প্রাথমিক গণনার প্রবণতা প্রকাশ করেছে। এ অনুযায়ী, বিএনপি জোট প্রার্থীরা অধিকাংশ আসনে এগিয়ে রয়েছে। সরকারের তথ্যসূত্রে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিএনপি জোট ১৪টি আসনে এগিয়ে, এবং জামায়াতে ইসলামী (জামাত) নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ৯টি আসনে শীর্ষে রয়েছে।
এছাড়াও অন্যান্য দলের একজন প্রার্থী এগিয়ে আছে।প্রাথমিক ফলাফলের ভিত্তিতে দেখা গেছে, প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিএনপি জোটের প্রার্থীরা বেশ কিছু কেন্দ্রে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। বিএনপির প্রধান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন আসনগুলোতে প্রার্থীরা শক্তিশালী অবস্থানে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং নেতা মহম্মদ আসাদুজ্জমানও তাদের নির্বাচনী কেন্দ্রে এগিয়ে।অন্যদিকে, জামাতের প্রধান (আমির) শফিকুর রহমান কিছু কেন্দ্রে এগিয়ে থাকলেও দলের তিন হেভিওয়েট প্রার্থী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ এবং ছাত্র সংগঠন ইসলামি ছাত্রশিবিরের নেতা তথা আইনজীবী শিশির মনির পিছিয়ে রয়েছে। জামাত জোটের সহযোগী দল এনসিপির নেতা হাসনত আবদুল্লাও জয়ের দোরগোড়ায় রয়েছেন।একই সময়ে অনুষ্ঠিত গণভোটের প্রাথমিক ফলাফলের প্রবণতা অনুযায়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনিক সংস্কার সংক্রান্ত প্রস্তাবকে ভোটদাতারা ব্যাপক সমর্থন জানিয়েছেন। গণভোটের প্রাথমিক তথ্য বলছে, বড় ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ প্রস্তাব শীর্ষে রয়েছে, যা সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের সংস্কারের প্রস্তাবকে শক্তিশালী করেছে।বৃহস্পতিবারের এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও গণভোটের ফলাফল বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন দিক নির্দেশ করতে পারে। তবে এখনো গণনা সম্পূর্ণ হয়নি, ফলে চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি জোটের শক্ত অবস্থান এবং ইউনূসের প্রস্তাবের সাফল্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

