রাতদিন ওয়েবডেস্ক : হিন্দি চলচ্চিত্র জগতে আজ তিনি প্রতিষ্ঠিত নাম। একাধিক সুপারহিট ছবির নায়ক, দীর্ঘ চার দশকের কেরিয়ারে অগণিত সাফল্যের সাক্ষী। কিন্তু অনিল কাপুর এর জীবনের ভিত গড়ে উঠেছিল এক অনিশ্চিত সময়ের মধ্যে। আর সেই সময় থেকেই তাঁর পাশে ছিলেন স্ত্রী সুনিতা কাপুর ।বন্ধুদের মাধ্যমেই প্রথম আলাপ অনিল ও সুনীতার। তখন সুনীতা সফল মডেল হিসেবে কাজ করছেন, ফ্যাশন জগতে তাঁর যথেষ্ট পরিচিতি। অন্য দিকে অনিল বলিউডে নিজের জায়গা তৈরির লড়াইয়ে ব্যস্ত। কাজের নিশ্চয়তা নেই, ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। সেই সময় বন্ধুর কাছ থেকে সুনীতার ফোন নম্বর নিয়ে যোগাযোগ শুরু করেন অনিল।
প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর ধীরে ধীরে সম্পর্ক গড়ায় প্রেমে। দীর্ঘ পাঁচ বছরের সম্পর্কে পরিণতি আসে ১৯৮৪ সালের ১৯ মে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তাঁরা।বিয়ের পর থেকেই অনিলের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে শুরু করেন সুনীতা। শুধু সংসার সামলানোই নয়, অনিলের পেশাগত জীবনের দিকেও নজর রাখতেন তিনি। কোন ছবিতে কাজ করছেন, কোথায় প্রচার রয়েছে, কোন অনুষ্ঠানে কী পোশাক পরবেন সবটাই খুঁটিয়ে দেখতেন। অনিলের স্টাইলিং ও পোশাক পরিকল্পনার দায়িত্বও নিজের হাতে তুলে নেন সুনীতা। ধীরে ধীরে নিজের মডেলিং কেরিয়ার কমিয়ে দেন, যাতে স্বামীর কেরিয়ার ও সংসার দু’দিকই সামলানো যায়।অনিল একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, বাইরের চোখে তিনি যতই তারকা হোন না কেন, বাড়িতে তিনি একেবারে সাধারণ মানুষ। এখনও বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে স্ত্রীর কাছ থেকে হাতখরচ নেন। কখনও ১০ হাজার, কখনও ১৫ হাজার টাকা নিয়ে দিন শুরু করেন। তাঁর কথায়, “বিয়ের পর থেকে এই নিয়মই চলছে। আমার মনে হয়, আমি স্ত্রীর কাছ থেকেই হাতখরচ পাই।
আসলে আমার স্ত্রী আমার সব কিছুর খেয়াল রাখে।”এই স্বীকারোক্তি শুধু রসিকতা নয়, বরং সম্পর্কের গভীর আস্থার প্রকাশ বলেই মনে করেন অনেকে। কারণ, কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলোতে যখন অনিলের হাতে নিয়মিত কাজ ছিল না, তখনও সংসারের যাবতীয় খরচ বহন করতেন সুনীতা। অনিল জানান, তিনি কখনও বাড়ির লোকের কাছ থেকে টাকা নিতেন না। সেই কঠিন সময়ে সুনীতাই তাঁর ভরসা ছিলেন।বলিউডে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করতে সময় লেগেছে অনিলের। ধীরে ধীরে একের পর এক সফল ছবি তাঁকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয়। কিন্তু সাফল্যের ঝলকানির আড়ালেও ব্যক্তিগত জীবনের এই সমীকরণ বদলায়নি। সংসারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা থেকে শুরু করে পেশাগত সূচি সবকিছুতেই সুনীতার সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে।দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক সম্মান ও দায়িত্ববোধই তাঁদের সম্পর্কের মূল ভিত্তি। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে একই নিয়মে চলা হাতখরচের প্রসঙ্গ আজও তাঁদের সম্পর্কের মজবুত বন্ধনের প্রতীক হয়ে আছে। বলিউডের চাকচিক্যের মাঝেও এই সহজ, স্বচ্ছ সম্পর্কই অনিল ও সুনীতার দাম্পত্যকে আলাদা করে চিহ্নিত করে।সংগ্রামের দিন হোক বা সাফল্যের চূড়া জীবনের প্রতিটি পর্বে সঙ্গীর পাশে থাকার যে প্রতিশ্রুতি, সেটাই যেন তাঁদের গল্পের আসল সারমর্ম।

