রাতদিন ওয়েবডেস্ক : বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কেমন হবে, তা নিয়ে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ নেতা মাহদী আমিন। মাহদী বলেন, ক্ষমতায় এলে বিএনপি ভারতের সঙ্গে সমান ও ন্যায্য ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, বর্তমানে কিছু ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, তবে তা মানুষে-মানুষে যোগাযোগ আরও নিবিড় করার একটি সুযোগও হতে পারে।মাহদী আমিন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্যতম মুখপাত্র এবং তারেকের উপদেষ্টা।
‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের জন্য ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক শুধুমাত্র কূটনৈতিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বাণিজ্য, শিল্প, সংস্কৃতি, শিক্ষা, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে কাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান, এমন একটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক চাই যেখানে দুই দেশই সমানভাবে উপকৃত হবে এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তি থাকবে।মাহদী আরও বলেন, “শুধু প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে নয়, গোটা বিশ্বের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার সুযোগ বাংলাদেশে রয়েছে। প্রতিটি সমস্যা মানুষকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত করার একটি পথ হতে পারে। আমরা চাই, বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ই সমানভাবে লাভবান হোক।”সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংখ্যালঘুদের উন্নয়ন এবং বর্তমান সরকারের সমালোচনা সম্পর্কেও বক্তব্য দেন। মাহদী দাবি করেছেন, গত কয়েক দশক ধরে আওয়ামী লীগ মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে জনগণ নির্বাচনকে সমর্থন দিয়ে বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ একটি সচেতন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জনগণই নির্ধারণ করেছেন যে, দেশের সুষ্ঠু ও ন্যায়পরায়ণ ব্যবস্থার জন্য বিএনপির নেতৃত্বে সরকার প্রয়োজন।”সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়ে মাহদী নিশ্চিত করেছেন, বিএনপি ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর আদর্শ অনুসরণ করে, যেখানে ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার এবং স্বাধীনতার অধিকার পাবে। তিনি বলেন, ক্ষমতায় এলে বিএনপি সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় এবং দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নত করার দিকে কাজ করবে।বিস্তারিতভাবে মাহদী মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশের জনগণ, রাজনৈতিক দল এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দেশকে একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিএনপি কাজ করতে চায়। ক্ষমতায় এলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন কমিয়ে, সমন্বিত ও স্বচ্ছ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে দলের।

