রাতদিন ওয়েবডেস্ক : জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। বুধবার প্রকাশিত ১০ পাতার গাইডলাইনে জানানো হয়েছে, জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’-এর মতোই সরকারি অনুষ্ঠানে এ বার থেকে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে গাওয়া হবে জাতীয় গানও। ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের সময় উপস্থিত সকলকে উঠে দাঁড়াতে হবে এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই গান শেষ করতে হবে।নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ‘বন্দে মাতরম’-এর ছ’টি স্তবক ১৯০ সেকেন্ড বা ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ডের মধ্যে গাওয়া বাধ্যতামূলক। কোন কোন ক্ষেত্রে এই গান গাইতে হবে, তাও বিস্তারিত ভাবে জানানো হয়েছে।
জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময়, সরকারি অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির আগমন ও প্রস্থানকালে, রাষ্ট্রপতির জাতির উদ্দেশে ভাষণের আগে ও পরে, রাজ্যপাল বা উপরাজ্যপালের উপস্থিতিতে সরকারি কর্মসূচিতে, নাগরিক সম্মান বা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এবং কুচকাওয়াজে জাতীয় পতাকা আনার সময় জাতীয় গান পরিবেশন করতে হবে। যেসব অনুষ্ঠানে বর্তমানে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয়, সেখানে আগে জাতীয় গান এবং পরে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের কথা বলা হয়েছে।স্কুলগুলির ক্ষেত্রেও সুপারিশ করা হয়েছে, প্রার্থনা সভা বা বিশেষ অনুষ্ঠানে সমবেত কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া যেতে পারে। পড়ুয়াদের মধ্যে জাতীয় গান, জাতীয় সঙ্গীত এবং জাতীয় পতাকার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বাড়াতে স্কুল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে কোনও সিনেমার অংশ হিসেবে জাতীয় গান বাজলে দর্শকদের দাঁড়ানো বাধ্যতামূলক নয় এ কথাও স্পষ্ট করেছে মন্ত্রক। তাদের মতে, সে ক্ষেত্রে দাঁড়ানো বাধ্যতামূলক করলে বিশৃঙ্খলা বা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতে পারে।উল্লেখযোগ্য, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উদ্যাপন চলছে। ১৮৭৫ সালে রচিত এই গান ১৮৮২ সালে ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৯৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম এটি গান। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় গানটি দেশাত্মবোধের প্রতীক হয়ে ওঠে। সংবিধান জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি জাতীয় গানকেও স্বীকৃতি দিয়েছে, যদিও এত দিন এর পরিবেশন নিয়ে নির্দিষ্ট বিধি ছিল না।সূত্রের খবর, জাতীয় গানের মর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে গত জানুয়ারিতে দিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে একটি বৈঠক হয়েছিল। সেখানে বিভিন্ন মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠকের পর থেকেই নতুন নির্দেশিকার জল্পনা শুরু হয়। অবশেষে কেন্দ্র আনুষ্ঠানিক ভাবে জাতীয় গান পরিবেশনের নিয়মাবলি ঘোষণা।

