রাতদিন ওয়েবডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকৃত অবস্থান এবং উদ্দেশ্য বুঝে নেওয়ার লক্ষ্যেই আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় বসেছে ইরান এ কথা স্পষ্ট করল তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্ব। মঙ্গলবার ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটন এই আলোচনা প্রক্রিয়াকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, তা যাচাই করতেই বৈঠকে অংশ নিয়েছে তারা।দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছনোর মধ্যেই গত শুক্রবার ওমানে প্রথম দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ইরান ও আমেরিকার প্রতিনিধিদের মধ্যে।
ওই বৈঠকে তেহরানের পারমাণু কর্মসূচি অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল। তবে বৈঠকটি কতটা ফলপ্রসূ হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, বৈঠকের সময় উভয় পক্ষের মধ্যে যথেষ্ট অবিশ্বাসের পরিবেশ ছিল। তা সত্ত্বেও ভবিষ্যতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেই মনে করছে তেহরান।এর আগে রবিবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছিলেন, ওমানে অনুষ্ঠিত বৈঠককে আমেরিকা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তাঁর মনে হয়নি। তিনি আরও স্পষ্ট করে দেন, ইরানের পরমাণু পরিকল্পনা বা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ নিয়ে কোনও আপসের প্রশ্নই ওঠে না। তবে এ বার সেই বিদেশ মন্ত্রকই জানাল, মতপার্থক্য এবং অবিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।প্রসঙ্গত, গত বছরের জুনে ইজ়রায়েল ও ইরানের মধ্যে টানা ১২ দিন যুদ্ধ চলে, যেখানে সাময়িক ভাবে আমেরিকাও যুক্ত হয়েছিল। তার পর থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি সেই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।এর মধ্যেই আমেরিকা আরব সাগরে রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন মোতায়েন করেছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতিতে ইরান ভয় পায় না এবং তাদের সিদ্ধান্ত অন্য কেউ ঠিক করে দিতে পারে না। অন্য দিকে, সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে আমেরিকা তাদের সব জাহাজের ক্যাপ্টেনকে ইরানের জলসীমা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

