রাতদিন ওয়েবডেস্ক : দীর্ঘ ৩৭ বছর পর অবশেষে নিজের জন্মস্থান কলকাতা থেকে জন্ম শংসাপত্র পেতে চলেছেন প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ দেবী শেঠির পুত্র। ১৯৮৯ সালে দেবী শেঠির কনিষ্ঠ পুত্র যখন কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তখন নানা কারণে তাঁর বার্থ সার্টিফিকেট বা জন্ম শংসাপত্র সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি এই বিষয়টি সামনে আসার পরেই নড়েচড়ে বসে কলকাতা পুরসভা। বর্তমানে চিকিৎসা ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য হওয়ায় এই বিষয়টি প্রশাসনিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী, জন্মের এক বছরের মধ্যে শংসাপত্র না নিলে পরবর্তীকালে তা পাওয়া বেশ জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে দাঁড়ায়, এক্ষেত্রেও দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হওয়ায় আইনি ও প্রশাসনিক কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তবে কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই এবং আইনি প্রক্রিয়া মেনেই এই বিশেষ শংসাপত্র প্রদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কলকাতার সঙ্গে দেবী শেঠির দীর্ঘদিনের আত্মিক ও পেশাদার যোগসূত্র রয়েছে, আর সেই শহরেই তাঁর সন্তানের জন্মের বৈধ দলিল হাতে পাওয়া পরিবারের কাছে অত্যন্ত আবেগপূর্ণ একটি বিষয়। পুরসভার এই উদ্যোগ কেবল একটি শংসাপত্র প্রদান নয়, বরং দীর্ঘদিনের বকেয়া একটি প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করার নজির হিসেবেও দেখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেও এমন জটিলতা নিরসনে পুরসভা যে তৎপর হতে পারে, এই ঘটনা তারই ইঙ্গিত দেয়। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে হলফনামা এবং হাসপাতালের পুরনো রেকর্ড খতিয়ে দেখার পরই এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ৩৭ বছর আগের নথিপত্র খুঁজে বের করে তা বর্তমান ডিজিটাল পদ্ধতিতে অন্তর্ভুক্ত করা ছিল পুরসভার কর্মীদের কাছে এক বড় চ্যালেঞ্জ। শেষ পর্যন্ত সেই বাধা কাটিয়ে দেবী শেঠির পুত্রের হাতে কলকাতার স্থায়ী নাগরিকত্বের এই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণপত্র তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়াটি এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। প্রশাসনিক এই ইতিবাচক পদক্ষেপ চিকিৎসা মহলেও বেশ প্রশংসিত হয়েছে।

