রাতদিন ওয়েবডেস্ক : কলকাতার এক নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন স্ত্রীর মৃত্যুর প্রাক্কালে স্বামীকে কেন থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে কলকাতা পুলিশ কমিশনারের কাছে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করল পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য কমিশন। সাম্প্রতিক এক নজিরবিহীন ঘটনায় জানা গেছে, পেটের সমস্যা নিয়ে ২৫ বছর বয়সী এক মহিলা টালিগঞ্জ থানা এলাকার একটি নার্সিংহোমে ভর্তি হয়েছিলেন। অস্ত্রোপচারের পর তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত তিনি প্রাণ হারান। তবে এই ঘটনার প্রেক্ষাপট অত্যন্ত বিতর্কিত হয়ে উঠেছে স্বামীর প্রতি পুলিশের আচরণের কারণে।
অভিযোগ উঠেছে যে, যখন ওই তরুণী মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন, সেই চরম সংকটজনক মুহূর্তে তাঁর স্বামী দেবনাথ ভট্টাচার্যকে নার্সিংহোম থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে প্রথমে টালিগঞ্জ এবং পরে ভবানীপুর থানায় বসিয়ে রাখা হয়। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ যেখানে দাবি করেছে যে তারা পুলিশকে কোনও খবর দেয়নি, সেখানে পুলিশ কেন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পরিবারের উপস্থিতিতে তাঁকে জোরপূর্বক থানায় নিয়ে গেল, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। জানা গেছে, পণ সংক্রান্ত একটি পুরনো অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে, কিন্তু একজন মুমূর্ষু রোগীর স্বামীকে তাঁর স্ত্রীর শেষ সময়ে পাশে থাকতে না দিয়ে থানায় আটকে রাখার এই অমানবিক পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে স্বাস্থ্য কমিশন। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে যে, মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে এমন কোনও জরুরি অভিযোগ ছিল না যার জন্য এই তৎপরতা প্রয়োজন ছিল। একজন মুমূর্ষু স্ত্রীর কাছ থেকে তাঁর স্বামীকে সরিয়ে নেওয়ার পেছনে কোনো বিশেষ প্রশাসনিক বা আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতেই এই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবারের এই নির্দেশে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পুলিশ কমিশনারকে ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ রিপোর্ট জমা দিতে হবে। মানবিকতার খাতিরে এই ঘটনাটি কেন এড়িয়ে যাওয়া হল এবং পুলিশের এমন অতিসক্রিয়তার নেপথ্যে প্রকৃত কারণ কী, তা এখন তদন্তসাপেক্ষ।

