রাতদিন ওয়েবডেস্ক : শীতের শেষ আর বসন্তের শুরু এই সময়টাতেই সবচেয়ে বেশি বাড়ে সর্দি-কাশি, জ্বর ও নানা সংক্রামক অসুখ। আবহাওয়ার ওঠানামায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এই সময়ে খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে পুষ্টিগুণে ভরপুর সবুজ শাকসবজি। সেই তালিকায় অন্যতম সর্ষে শাক।পঞ্জাবের বিখ্যাত পদ ‘সরসোঁ দা শাগ’-এর জন্য পরিচিত হলেও এখন বাঙালি রান্নাঘরেও সর্ষে শাক বেশ জনপ্রিয়। স্বাদে ঝাঁঝালো হলেও পুষ্টিগুণে ভরপুর এই শাক শরীরকে ভিতর থেকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।
অনেকে যেমন বসন্তকালে সজনে ফুল খান, তেমনই সর্ষে শাকও হতে পারে সংক্রমণ রোধের কার্যকর উপায়।সর্ষে শাকে প্রচুর ভিটামিন এ ও সি রয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এ ছাড়া এতে থাকা সালফার শরীরকে ডিটক্স করতে সাহায্য করে এবং লিভারের সুস্থতা বজায় রাখে। উচ্চমাত্রার ফাইবার হজমশক্তি উন্নত করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং বিপাক প্রক্রিয়া সক্রিয় রাখে। ফলে ঋতু পরিবর্তনের ধাক্কা সামলাতে শরীর পায় বাড়তি সুরক্ষা।তবে পুষ্টিগুণ পেতে হলে রান্নার ধরনেও নজর দিতে হবে। রেস্তরাঁর মতো অতিরিক্ত তেল-মশলা ব্যবহার করলে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হতে পারে। বরং কম তেল ও অল্প মশলায় রান্না করাই শ্রেয়।সহজ একটি পদ হতে পারে সর্ষে শাকের স্ট্যু। কুচনো সর্ষে শাকের সঙ্গে গাজর ও পেঁয়াজকলি অল্প জলে সেদ্ধ করে নিয়ে শেষে সামান্য অলিভ অয়েল বা মাখন ও গোলমরিচ ছড়িয়ে পরিবেশন করা যায়। এতে স্বাদ বজায় থাকে, পুষ্টিও নষ্ট হয় না।ডালের সঙ্গে সর্ষে শাক মিশিয়েও তৈরি করা যায় স্বাস্থ্যকর খাবার। বিউলি বা মুগ ডাল সেদ্ধ করার সময় তাতে শাক কুচি দিয়ে দিলে পুষ্টিমান বেড়ে যায়। উপরে কাঁচালঙ্কা, আদা ও মৌরির হালকা ফোড়ন দিলে স্বাদ বাড়ে, তেলও কম লাগে।আরও পুষ্টিকর বিকল্প হল সর্ষে শাক ও পনিরের স্ট্যু। অল্প মশলায় শাক, পেঁয়াজ, আদা-রসুনের সঙ্গে পনির মিশিয়ে রান্না করলে তা হয়ে ওঠে সুষম ও স্বাস্থ্যকর পদ।ঋতু পরিবর্তনের সময়ে সুস্থ থাকতে চাইলে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় যোগ করুন সর্ষে শাক। সঠিক উপায়ে রান্না করলেই মিলবে স্বাদ ও পুষ্টির যুগলবন্দি।
