রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ‘স্বাস্থ্যই সম্পদ’ এই প্রবাদবাক্য আজকের দিনে যেন আরও বাস্তব ও জরুরি। অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা কিংবা হজমজনিত সমস্যা দ্রুত বাড়ছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ থাকতে কঠোর নিয়ম নয়, বরং প্রতিদিনের কিছু সহজ অভ্যাসই বড় পরিবর্তন আনতে পারে শরীর ও মনে।দিনের শুরুটাই হতে পারে সুস্থতার প্রথম ধাপ। ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল ফোনে চোখ না রেখে কয়েক মিনিট নিজের জন্য সময় রাখা ভালো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে চোখ বন্ধ করে ইতিবাচক কিছু ভাবলে বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে মানসিক চাপ কমে এবং দিনটা ভালভাবে শুরু হয়।সকালের রোদও শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট রোদে দাঁড়ালে শরীর পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি পায়। এটি হাড় মজবুত রাখতে সাহায্য করে, ঘুমের ছন্দ ঠিক রাখে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও ভূমিকা রাখে।খাওয়ার পর অনেকেই সঙ্গে সঙ্গে বিশ্রামে যান, যা হজমের পক্ষে ভালো নয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ, খাবারের পর ১০ মিনিট হালকা হাঁটাহাঁটি করলে হজম প্রক্রিয়া সহজ হয়, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং গ্যাস-অম্বলের ঝুঁকি কমে।খাদ্যতালিকায় ফার্মেন্টেড খাবার রাখা অন্ত্রের জন্য উপকারী। দই, ঘরে তৈরি আচার বা ইডলি-ডোসার মতো খাবার শরীরে উপকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়ায়। এতে পেট পরিষ্কার থাকে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়।রান্নায় নিয়মিত হলুদ, আদা, জিরা, ধনে ও মৌরির মতো মসলা ব্যবহার করলে হজমশক্তি বাড়ে। পাশাপাশি প্রতিদিন বিভিন্ন রঙের শাক-সবজি খেলে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ পায়।খাওয়ার নির্দিষ্ট সময়ও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলেন, দিনে ১২ ঘণ্টার মধ্যে সব খাবার শেষ করা ভাল। যেমন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে খাবার সেরে ফেললে শরীর রাতে বিশ্রাম পায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।ফলমূল, বিশেষ করে বেরি জাতীয় ফল, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। তবে খাওয়ার আগে ভালো করে ধুয়ে নেওয়া জরুরি।সবশেষে, পর্যাপ্ত ঘুম সুস্থতার অন্যতম স্তম্ভ। প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম না হলে শরীরে ক্লান্তি, অতিরিক্ত খিদে এবং হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাধারণ অভ্যাসগুলো নিয়মিত অনুসরণ করলেই সুস্থ জীবন অনেকটাই সহজ হয়ে উঠতে পারে।
