রাতদিন ওয়েবডেস্ক : বাংলাদেশের খাদ্যসংস্কৃতিতে রুই মাছ বহুদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। শহর হোক বা গ্রাম অধিকাংশ পরিবারেই সপ্তাহে অন্তত এক দিন রুই মাছের পদ থাকে। স্বাদে জনপ্রিয় এই মাছ যে শুধু রসনাতৃপ্তিই নয়, শরীরের জন্যও উপকারী, তা সাম্প্রতিক গবেষণায় আবারও উঠে এসেছে।পুষ্টিবিদ ও গবেষকদের মতে, নিয়মিত কিন্তু পরিমিত পরিমাণে রুই মাছ খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে পারে। পাশাপাশি হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রেও এই মাছ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
তুলনামূলকভাবে কম ক্যালোরিযুক্ত হওয়ায় অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের খাদ্যতালিকায় রুই মাছ রাখা নিরাপদ বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।ষ্টিগুণের দিক থেকে রুই মাছ অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, ডি ও ই-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন। পাশাপাশি ক্যালসিয়াম, আয়রন, জিঙ্ক, পটাসিয়াম ও সোডিয়ামসহ একাধিক খনিজ উপাদান শরীরের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে সাহায্য করে। রুই মাছে থাকা কোলিন নামের উপাদান স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা বজায় রাখতে, শরীরের ফ্যাট বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে এবং পুষ্টি পরিবহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।উচ্চ রক্তচাপের ক্ষেত্রেও রুই মাছ উপকারী হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। আমেরিকার স্কুল অব নিউট্রিশনের জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, নিয়মিত রুই মাছ খেলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমতে পারে এবং যাঁরা ইতিমধ্যেই এই সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও চাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যায়, রুই মাছের তেলে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই উপাদান রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে এবং রক্তনালিতে জমাট বাঁধার প্রবণতা হ্রাস করে। ফলে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা কমে।তবে পুষ্টিবিদরা অতিরিক্ত খাওয়ার পক্ষপাতী নন। তাঁদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে একটি মাঝারি বা বড় টুকরা রুই মাছই যথেষ্ট। সুষম খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে পরিমিত পরিমাণে রুই মাছ রাখলে দীর্ঘমেয়াদে শরীর ও হৃদ্যন্ত্র দু’টিই উপকৃত হতে পারে।

