রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ১৫০ আলোকবর্ষ দূরে মিলল পৃথিবীর মতো শীতল ভিনগ্রহের খোঁজ মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অভাবনীয় সাফল্য এনে দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫০ আলোকবর্ষ দূরে এক নতুন শীতল ভিনগ্রহের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা আয়তন এবং প্রকৃতির দিক থেকে অনেকটাই আমাদের এই নীলাভ গ্রহের মতো। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এই আবিষ্কার ভিনগ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব বা বসবাসের উপযোগী পরিবেশ সন্ধানের পথে একটি বড় মাইলফলক হতে পারে। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ এবং অন্যান্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় এই গ্রহটিকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সাধারণত দেখা যায়, আবিষ্কৃত অধিকাংশ ভিনগ্রহই হয় অত্যন্ত উত্তপ্ত বা গ্যাসীয় দানবীয় গ্রহের মতো, কিন্তু এই গ্রহটি তার নক্ষত্র থেকে এমন এক দূরত্বে অবস্থিত যে এর তাপমাত্রা অত্যন্ত কম বা শীতল। বিজ্ঞানীরা একে 'আইস-কোল্ড এক্সোপ্ল্যানেট' হিসেবে অভিহিত করেছেন। মহাকাশের বিশালতায় ১৫০ আলোকবর্ষ দূরত্বটি খুব বেশি বলে মনে হলেও, মহাজাগতিক স্কেলে এটি আমাদের বেশ কাছের প্রতিবেশী হিসেবেই গণ্য হয়। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গ্রহটি একটি বামন নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে। গ্রহটির বায়ুমণ্ডলীয় গঠন এবং সেখানে জল বা বরফের উপস্থিতির সম্ভাবনা নিয়ে বর্তমানে নিবিড় গবেষণা চলছে। যদি সেখানে জলের সন্ধান মেলে, তবে প্রাণের বিকাশের প্রাথমিক শর্তগুলো পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হবে। গবেষকদের মতে, এই গ্রহের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের অনেক নিচে হওয়ার কারণে সেখানে প্রাণের বিকাশ পৃথিবীর মতো না হলেও, অনুজীব পর্যায়ের কোনো অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই আবিষ্কারের ফলে সৌরজগতের বাইরে অন্য কোনো গ্রহে মানুষের বসবাসের উপযুক্ত পরিবেশ ভবিষ্যতে তৈরি করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে নতুন করে আশার আলো দেখছেন বিজ্ঞানীরা। আগামী দিনে আরও উন্নততর স্পেকট্রোস্কোপি বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই শীতল গ্রহের মেঘের স্তর এবং মাটির গঠন সম্পর্কে বিশদ তথ্য সংগ্রহ করা হবে, যা মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে চিরতরে বদলে দিতে পারে। এই ধরণের গবেষণা কেবল নতুন গ্রহের হদিস দেয় না, বরং মহাবিশ্বে আমরা একাকী কি না, সেই চিরন্তন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেও সাহায্য করে। তাই এই নতুন শীতল গ্রহটির আবিষ্কার জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

