রাতদিন ওয়েবডেস্ক : কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর থানার অন্তর্গত গোলপার্কের কাঁকুলিয়া রোডে সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ২৩ জনের মধ্যে ১৭ জনকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দিল আলিপুর আদালত। তবে এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দার এখনও অধরা। পুলিশ তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।ঘটনাটি ঘটে ১ ফেব্রুয়ারি রাতে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গোলপার্কের পঞ্চাননতলা এলাকায় একটি ক্লাবের পিকনিককে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বচসা শুরু হয়। রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ সেই বচসা সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ, স্থানীয় ব্যবসায়ী বাপি হালদারের গোষ্ঠীর সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে সোনা পাপ্পুর দলবল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি, এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়েই এই গোলমালের সূত্রপাত।সংঘর্ষের সময় ইট-পাটকেল ছোড়া হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের গাড়িতেও হামলার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় রবীন্দ্র সরোবর থানায় একাধিক এফআইআর দায়ের হয়েছে। পুলিশের তরফে একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলাও রুজু করা হয়েছে সরকারি সম্পত্তিতে ভাঙচুরের অভিযোগে।এলাকাবাসীর একাংশ সরাসরি সোনা পাপ্পুর দলের বিরুদ্ধে অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, সম্প্রতি এলাকায় দখলদারির চেষ্টা চলছিল। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পাপ্পু। পলাতক অবস্থাতেই তিনি সামাজিক মাধ্যমে লাইভে এসে নিজের বক্তব্য জানান। একটি গাড়ির ভিতর থেকে করা সেই লাইভে তিনি দাবি করেন, ঘটনার রাতে তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তাঁর কথায়, সেদিন তাঁর বাড়িতে মাঘী পূর্ণিমার পুজো ছিল এবং সকাল থেকে উপোস করে পুজোয় অংশ নিয়েছিলেন। রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বাড়িতেই ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। এমনকি বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ ও স্ত্রীর করা লাইভ সম্প্রচারের কথাও উল্লেখ করেন নিজের সাফাইয়ে।পুলিশ অবশ্য তাঁর দাবি খতিয়ে দেখছে। তদন্তকারীরা জানান, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। গ্রেফতার হওয়া ২৩ জনের মধ্যে ১৭ জন জামিন পেলেও বাকিদের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।গোলপার্কের এই সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করাই এখন তদন্তের প্রধান লক্ষ্য।

