রাতদিন ওয়েবডেস্ক : বর্তমান ব্যস্ততম জীবনযাত্রায় অনিদ্রা বা ইনসোমনিয়া এক ভয়াবহ স্বাস্থ্যসংকট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যা কেবল শারীরিক ক্লান্তি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী মানসিক ও অভ্যন্তরীণ জটিলতার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, ইনসোমনিয়া মানে কেবল রাতে ঘুম না আসা নয়, বরং ঘুমের গুণগত মানের অবনতিও এর অন্তর্ভুক্ত। দীর্ঘক্ষণ বিছানায় শুয়ে থেকেও ঘুম না আসা, মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া কিংবা ভোরের আগেই ঘুম ভেঙে আর না আসা এই সবই ইনসোমনিয়ার প্রাথমিক লক্ষণ। এই সমস্যার মূলে রয়েছে আধুনিক জীবনের অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম এবং মানসিক চাপ।
মোবাইল বা ল্যাপটপ থেকে নির্গত নীল আলো আমাদের শরীরে মেলানিন হরমোনের নিঃসরণ কমিয়ে দেয়, যা স্বাভাবিক ঘুমের চক্রকে ব্যাহত করে। দীর্ঘদিনের অনিদ্রা শরীরকে অবসাদগ্রস্ত করে তোলে, যার ফলে কাজের মনোযোগ হ্রাস পায়, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায় এবং হার্টের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো রোগের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ইনসোমনিয়া থেকে মুক্তি পেতে হলে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা জরুরি, যার মধ্যে রয়েছে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস করা, শোয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের ইলেকট্রনিক গ্যাজেট থেকে দূরে থাকা এবং ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় বর্জন করা। যদি জীবনযাপনে পরিবর্তনের পরেও সমস্যার সমাধান না হয়, তবে এটিকে সাধারণ অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন, কারণ অনিদ্রা কোনো সাময়িক সমস্যা নয়, এটি একটি গুরুতর শারীরিক সংকেত যা অবহেলা করলে বড় ধরনের স্নায়বিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। সচেতনতা এবং সঠিক রুটিনই হতে পারে এই আধুনিক মহামারি থেকে মুক্তি দিতে।

