রাতদিন ওয়েবডেস্ক : গত সেপ্টেম্বরে আমেরিকা সফরের সময় সে দেশের বর্তমান বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োর সঙ্গে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের একটি বৈঠক হয়েছিল বলে সম্প্রতি দাবি করে ব্লুমবার্গ। ওই বৈঠকেই আমেরিকার কাছে ভারতের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক অবস্থান স্পষ্ট করে তুলে ধরেছিলেন ডোভাল এমনটাই দাবি প্রতিবেদনে। যদিও এই দাবি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ডোভাল জানিয়ে দেন যে, কোনও চাপ বা ‘হুমকি’র মুখে পড়ে ভারত আমেরিকার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তিতে যাবে না। এমনকি, প্রয়োজনে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতেও প্রস্তুত ভারত। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, ট্রাম্প বা তাঁর প্রশাসনের শীর্ষ মহলের কোনও ‘দাদাগিরি’ ভারত মেনে নেবে না এই বার্তাও স্পষ্টভাবে পৌঁছে দিয়েছিলেন ডোভাল।তবে এই প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্ক শুরু হয়। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, সেপ্টেম্বরে ডোভাল ও রুবিয়োর মধ্যে এমন কোনও বৈঠকই হয়নি। ফলে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।উল্লেখযোগ্যভাবে, গত কয়েক মাস ধরেই ভারত-আমেরিকার বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। একাধিক দফায় আলোচনা হলেও চুক্তি চূড়ান্ত হচ্ছিল না। এই পরিস্থিতিতে হঠাৎ করেই সোমবার রাতে (ভারতীয় সময়) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যসমঝোতায় পৌঁছেছে আমেরিকা। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এই চুক্তিকে স্বাগত জানান। তবে চুক্তি কবে স্বাক্ষরিত হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি। তার মধ্যেই ডোভাল-রুবিয়ো বৈঠক সংক্রান্ত দাবি ও তা খারিজ হওয়া নতুন করে কূটনৈতিক জল্পনা উসকে দিল।

