রাতদিন ওয়েবডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ এক জননেত্রী এবং প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত। কিন্তু একটা সময় তিনি নিয়মিত আইন চর্চা করতেন, সে কথা অনেকেরই অজানা। সম্প্রতি রাজনীতির অলিন্দে উঠে এসেছে ১৯৯৭ সালের একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা, যখন হুগলি জেলা আদালতে আইনজীবীর কালো পোশাকে দাঁড়িয়ে সওয়াল করেছিলেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৯৭ সাল ছিল বাংলার রাজনীতির এক উত্তাল সময়।
সেই সময় চুঁচুড়া ময়দানে কংগ্রেসের একটি বড় সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তৎকালীন প্রশাসন সেই সমাবেশের অনুমতি দেয়নি। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে কংগ্রেস কর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কর্মীদের হয়ে লড়াই করতে সেদিন ময়দানে নেমেছিলেন। ঘটনার জেরে বেশ কয়েকজন কংগ্রেস কর্মীকে গ্রেফতার করে চুঁচুড়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। গ্রেফতার হওয়া কর্মীদের আইনি লড়াই দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেদিন নিজেই আইনজীবীর গাউন গায়ে চাপিয়েছিলেন। তিনি সরাসরি হুগলি জেলা আদালতে উপস্থিত হন। জোগেশচন্দ্র চৌধুরী কলেজ থেকে আইন পাস করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আলিপুর বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ছিলেন। কিন্তু ওইদিন তিনি হুগলি আদালতে যে দাপটের সঙ্গে সওয়াল করেছিলেন, তা আজও প্রবীণ আইনজীবীদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। আদালত কক্ষে মমতার সওয়াল ছিল অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণ এবং আবেগী। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তাঁর কর্মীদের মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। কোনো অভিজ্ঞ আইনজীবীর মতোই আইনের ধারা উল্লেখ করে তিনি বিচারকের কাছে সওয়াল করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নেত্রীর সেই তেজস্বী বক্তৃতার সামনে সেদিন প্রতিপক্ষ কিছুটা হলেও কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের পর তিনি তাঁর কর্মীদের জামিন নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এই ঘটনাটি কেবলমাত্র একজন নেত্রীর জেদের জয় ছিল না, বরং এটি ছিল আইনের প্রতি তাঁর অগাধ আস্থা ও দক্ষতার প্রমাণ। বর্তমানে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হলেও, তাঁর রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাসে হুগলি আদালতের সেই দিনটি এক বিশেষ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। আজও হুগলির আইনজীবী মহলে মাঝেমধ্যেই আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে সেই ১৯৯৭ সালের স্মৃতি, যখন রাজপথের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন আদালতের রক্ষাকর্তা।

