রাতদিন ওয়েবডেস্ক : সরকারি জমি জবরদখল করে নালা বুজিয়ে বহুতল বাড়ি তৈরির অভিযোগ উঠেছে ভরতপুরের বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবির -এর স্ত্রী আনোয়ারা খাতুনের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় রাজ্যের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর তাঁর নামে শো-কজ় নোটিস জারি করেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না মিললে তিনতলা বাড়ি ভাঙার মতো কড়া পদক্ষেপও করা হতে পারে বলে প্রশাসন সূত্রে ইঙ্গিত।প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, মুর্শিদাবাদের শক্তিপুর ব্লকের সোমপুকুরিয়া মৌজার ৪৪০২, ৪৪০৩ ও ৪৪০৪ দাগের জমি ২০০৩ সালে স্থানীয় এক ঠাকুর পরিবারের চার সদস্যের কাছ থেকে কেনেন আনোয়ারা।
সরকারি নথি অনুযায়ী, জমিটি প্রথম থেকেই নদীপথের নালা হিসেবে রেকর্ডভুক্ত ছিল। অভিযোগ, সেই নালা বুজিয়েই ২০০৪ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ২০১০ সালের মধ্যে সেখানে একটি তিনতলা বাড়ি তৈরি করা হয়।ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের বক্তব্য, প্রযোজ্য আইন ও পরিবেশগত বিধিনিষেধ অগ্রাহ্য করে জলনিকাশির পথ দখল করে স্থায়ী নির্মাণ করা হয়েছে। তাই কেন তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে আনোয়ারাকে।যদিও এই অভিযোগ মানতে নারাজ বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কয়েক দিন আগেই তাঁর বেয়াইয়ের একটি ‘বেআইনি সম্পত্তি’ মাদক সংক্রান্ত মামলার প্রেক্ষিতে বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। তার পরেই স্ত্রীকে শো-কজ় পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল ত্যাগ করার পর থেকেই তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে হেনস্থা করা হচ্ছে।হুমায়ুনের বক্তব্য, “বাড়ি তৈরির সময় থেকে একাধিকবার মিউটেশনের চেষ্টা করেছি। তখন সংশ্লিষ্ট অফিসারেরা জানিয়েছিলেন, আলাদা করে কিছু করার প্রয়োজন নেই। এখন হঠাৎ করে বিষয়টি বেআইনি বলা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আইনি পথেই জবাব দেওয়া হবে।”অন্য দিকে, আনোয়ারা খাতুনও প্রশাসনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, সমস্ত কাজ নিয়ম মেনেই হয়েছে এবং তিনি শো-কজ় নোটিসের জবাব দেবেন।জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ওই নির্মাণ ভাঙার প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
